মহাজোট সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপন কাল

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। আর উপলক্ষ্যে সংসদ সচিবালয় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে বাজেট উপস্থাপনকালে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অনুপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের মহাজোট সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপন করবেন। গত তিনবারের মত এবারো ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাৎ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে তিনি বাজেট উপস্থাপন করা হবে।

ওইদিন বাজেট বক্তৃতা, বাজেটের সংক্ষিপ্তসার, বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা: হালচিত্র-২০১৩, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নে পথনকশা: অগ্রগতির ধারা, সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি, নারীর উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৪০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম, সংযুক্ত তহবিল-প্রাপ্তি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিসমূহ (অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন), মঞ্জুরি ও বরাদ্দের দাবিসমূহ (উন্নয়ন), রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা: বর্তমান ও ভবিষ্যত, বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও অসমতা: উত্তরণের পথে যাত্রা, জেলা বাজেট, মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি এবং মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ জাতীয় সংসদ হতে সরবরাহ করা হবে।

একই সঙ্গে পরিকল্পনা কমিশন প্রণীত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-২০১৩-১৪ এর একটি দলিল এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যাবলী-২০১২-১৩ জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে।

বাজেটকে আরো অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট www.mof.gov.bd বাজেটের সকল তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাঠ ও ডাউনলোড করতে পারবেন।

এছাড়া দেশ-বিদেশ থেকে উক্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ প্রেরণ করা যাবে। প্রাপ্ত সকল মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদ কর্তৃক বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে।

ব্যাপকভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইট লিংক www.bangladesh. gov.bd, www.nbr-bd.org, www.plancomm.gov.bd, www.imed.gov.bd, www. bdpressinform.org, www.pmo.gov.bd ঠিকানায় বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

বাজেট উপস্থাপনের পরদিন অর্থাৎ আগামী ৭ জুন, ২০১২৩ তারিখ বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বাজেট উপস্থাপন সুষ্ঠুভাবে করতে সংসদ সচিবালয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সংসদের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অতিথি হিসেবে সংসদে উপস্থিত থাকবেন। অতিথি ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাস ইস্যু করা হয়েছে। আর সাংবাদিকদের মধ্যে বাজেট ডকুমেন্ট বিতরণ করার ব্যবস্থানা নিয়েছে গণসংযোগ বিভাগ।

বাজেট বক্তব্য যাতে করে সবাই দেখতে পারে এজন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে বড় স্ক্রিনে দেখানোর জন্য আইটি বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৩০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

বিশাল আকারের এই নতুন বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা, এনবিআর-বহির্ভূত কর ব্যবস্থা থেকে পাঁচ হাজার ১২৯ কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

বিদেশি অনুদান যেহেতু ফেরত দিতে হয় না, তাই এ ধরনের অনুদানকে রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে হিসাব করে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন অর্থবছরে এ ধরনের অনুদান প্রত্যাশা করা হয়েছে ছয় হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। বিদেশি এই অনুদানসহ নতুন অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি অনুদানসহ রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরের বাজেটে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। এতে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ২৬ হাজার তিন কোটি টাকা ও বৈদেশিক ঋণের সুদ এক হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এছাড়া অনুন্নয়ন মূলধন ব্যয় ২০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা, খাদ্য হিসাবে ২৬৩ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম খাতে ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকারের মোট অনুন্নয়নমূলক ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ১১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে মোট উন্নয়নমূলক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব বাজেট থেকে অর্থায়ন করা উন্নয়ন কর্মসূচিতে এক হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-বহির্ভূত প্রকল্পে তিন হাজার ১৪ কোটি টাকা, এডিপিতে ৬৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা এবং এডিপি-বহির্ভূত কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে এক হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট উন্নয়নমূলক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৪.৬ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক অনুদান পাওয়া গেলে নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা, যা ছিল আগের অর্থবছরের জিডিপির ৫ শতাংশ। বৈদেশিক অনুদান প্রাপ্তিসহ চলতি অর্থবছর ঘাটতি ধরা হয়েছিল মোট জিডিপির ৪.৪ শতাংশ বা ৪৬ হাজার ২৪ কোটি টাকা।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।