প্রধানমন্ত্রী জেলে যাওয়ার ভয় করছেন কেন?

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে নির্বাচন হবে না, সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতা দুজনকেই জেলে হবে’- সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে উপস্থিত আলোচকরা। প্রধানমন্ত্রী জেলে যাওয়ার ভয় করছেন কেন- এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা্

তারা বলেছেন, “তিনি কী করে এমন দৃষ্টিভঙ্গির বক্তব্য দিতে পারেন? তিনি কী এমন করেছেন যে, যার জন্যে তার জেলে যেতে হবে? তিনি এ ধরনের নৈরাস্যজনক বক্তব্য না দিয়ে এটাও বলতে পারতেন, এ ধরনের সরকার দরকার নেই।”

শনিবার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে প্যানেল সদস্য হিসেবে উপস্থিত থেকে তারা এসব কথা বলেন। প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শহিদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পরিচালক ব্যরিস্টার সারা হোসেন।

শহিদুজ্জামান বলেন, “এটা কি সাংবিধানিক কোন অবস্থায় বলা যেতে পারে? তিনি কী এমন করেছেন যে যার জন্য তাকে জেলে যেতে হতে হবে। তিনি নিজেও কয়েক বছর আগে তত্বাবধায়কের জন্যে আন্দোলন করেছিলেন।”

তিনি বলেন, “একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী করে এমন দৃষ্টিভঙ্গির বক্তব্য দিতে পারেন? তিনি এ ধরনের নৈরাশ্যজনক বক্তব্য না দিয়ে এটাও বলতে এ ধরনের সরকারে দরকার নেই। তিনি এর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতাকেও টেনে এনেছেন। এটা মানহানিকর।”

সারা হোসেন বলেন, “বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক চায়। তত্ত্বাবধায়কের অনেকগুলো সদস্যা আছে কিন্তু এর অধীনে নির্বাচন নিয়ে কারো দ্বিমত নেই।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্বের কোনো দেশেই এ নজির নেই। তবে আমাদের দেশে এটা হয়েছে। পুরো রায় না আসতেই রায়ের পাঁচ লাইন নিয়ে এটা বাতিল করা হযেছে।”

ওসমান ফারুক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এ কথার কোন ভিত্তি নেই। ‘ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়।’ সেদিন তিনি যেজন্য তত্বাবধায়ক চেয়েছিলেন। আজও সেই জন্যই তত্বাবধায়ক দরকার। তা হলো আস্থাহীনতা।”

তিনি বলেন, “১/১১ সরকারকে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের আন্দোলনরে ফসল বলেছিলেন। আমরা তা বলিনি। আমরা আশা করবো সরকার নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।”

তিনি বলেন, “সিটি নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। জাতীয় নির্বাচনে একটা সরকারে পরিবর্তন হয়। সিটি নির্বাচন সরকারকে অশনি সংকেত দিয়েছে। সরকারের এখনই তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নেয়া উচিত।”

মশিউর রহমান বলেন, “সংবিধানে যে নিয়মের কথা বলা হয়েছে সে নিয়ম মেনে নেয়া উচিত। এ বিয়টি নিয়ে বিরোধী দল তাদের কোনো প্রস্তাব দিতে পারতো। কিন্তু তারা তা করেনি। আসলে তাদের কাছে সুচিন্তিত কোনো প্রস্তাব নেই। তাদের গাড়ি ভাঙচুর করার একটা উপলক্ষ দরকার। গাড়ি ভাঙচুরের পরে তাদের আর কোনো বক্তব্য নেই।”

বিবিসি বাংলা এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রয়োজনা করেছেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেছেন আকবর হোসেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকরা সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রকাশ ও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।