‘পানিশিং বাংলাদেশ’: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একটি জাতি খুঁজে পেয়েছেন যেটিকে তিনি শাস্তি দিতে চান। আর সেই দেশটি হচ্ছে পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে আমেরিকার বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে। আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভ মাইকেল ফ্রোম্যান বলেছেন, “এটি বাংলাদেশের কর্মীদের কর্ম পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়তা করবে।”

সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ ‘পানিশিং বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। পত্রিকাটি লিখেছে, কিন্তু এর প্রকৃত ফলাফল হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমিকদের বিপদে ফেলা এবং আমেরিকান ফেডারেশন অফ লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অফ ইন্ডাসট্রিয়াল অর্গানাইজেশনস’র  (এএফএল-সিআইও) সংরক্ষণ নীতির জয় নিশ্চিত করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগ লেবার (আমেরিকার বড় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত কটুক্তিমূলক শব্দ) ২০০৭ সাল থেকেই আবেদন করে আসছে যেন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হয়। এপ্রিল মাসে রানা প্লাজা ধসে এগারোশ’র বেশি লোক মারা যায়। এ ঘটনা মার্কিন প্রশাসনকে এএফএল-সিআইও এবং কংগ্রেসে এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর অনুরোধ রক্ষা করার জন্য একটি ‘রাজনৈতিক অজুহাত’ দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ লিখেছে, জিএসপি বাতিলের সিদ্ধান্তটির কোনো নৈতিক বা অর্থনৈতিক যুক্তি নেই। প্রথমত, জিএসপি সুবিধা পোশাকশিল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমেরিকায় বাংলাদেশের রফতানির ৯০ শতাংশ আসে পোশাকশিল্প থেকে। এই সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ দিয়ে যেতে হবে। পোশাকশিল্পের ট্যারিফ এই শিল্পের নিরাপত্তা বাড়াতে ভূমিকা রাখেনি। অন্যান্য পণ্যের ওপর উচ্চ ট্যারিফ সেই শিল্পগুলোর প্রফিট মার্জিন সংকুচিত করে দেবে। ফলে সেই শিল্পগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতে অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেবার ক্ষেত্রে বাধ্য হবে। পোশাকশিল্পের ওপর ট্যারিফ মূলত বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে উন্নতির সিঁড়ির প্রথম ধাপ ওঠার গতি মন্থর করে দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো মূলত এমন একটি শিল্পের দুর্ভাগ্যজনক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, যেটি খুব দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। আর সরকার ও সমাজ এই গতির সঙ্গে একই তালে চলতে হিমশিম খাচ্ছে। শিল্পের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা উন্নত এবং দুর্নীতি বিরুদ্ধে কাজ করতে বাংলাদেশের সহায়তা প্রয়োজন।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর কর্মীদের সহায়তা করতে আমেরিকা পোশাকশিল্পের ট্যারিফ শূন্যতে নামিয়ে এনে তাদের জিএসপি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশ যখন নির্বিঘ্নে পোশাক রফতানি করতে পারবে তখন শিল্পায়নও দ্রুততর হবে।
এই দেশগুলোর উন্নতির গতি কমিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ মূলত তাদের নিজ নিজ সরকারের ব্যর্থতার জন্য শাস্তি দেবার নামান্তর, যা এএফএল-সিআইও এর পুরোনো ধ্যান-ধারণাকে উৎসাহিত করবে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।