আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

আজ বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ।  বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- কৈশোরে গর্ভধারণ, মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের হিসেব মতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬৫০ সালে এক কোটি ছিল। তা ২০০ বছর পর ১৯৫১ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ দুই কোটি তিন লাখ হয়। এই জনসংখ্যা চার কোটি ২০ লাখ হয় ৯০ বছরে (১৯৪১ সালে)। দেশে বর্তমান জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করে ৯৭৯ জন মানুষ। বর্তমান হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হবে।জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ঊর্ধ্বগামী। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করলেও তা ছিল পূর্বের বৃদ্ধির তুলনায় একেবারেই উদ্বেগজনক।
বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক বাংলাদেশে কৈশরে গর্ভধারণের কারণে মাতৃমৃত্যুর হার বাড়ছে। এ সময়  প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মজিবুর রহমান ফকিরসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের ৬৬ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয়। আর বিবাহিতদের কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণ করে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ। মন্ত্রী বলেন, দেশে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। দারিদ্র্যতার হাত থেকে রক্ষা পেতে বাবা-মা তার সন্তানকে বিয়ে দিচ্ছেন। এভাবেই দেশে বাল্যবিবাহ বাড়ছে। শহরের তুলনায় গ্রামে কিশোরী অবস্থায় মা হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
রুহুল হক বলেন, অনিরাপদ গর্ভপাত জনিত কারণে কিশোরী ও কম বয়সী নারীরা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতায় মৃত্যুঝুঁকি ও মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
২০০৮ সালের এক রিপোর্টে দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশসমূহে ১৫-১৯ বছর বয়সী নারীদেও প্রায় ৩ মিলিয়ন অনিরাপদ গর্ভপাত হয়। ২০-২৯ বছর বয়সী সন্তান জন্মদানকারী মায়েদের তুলনায় ২০ বছরের কম বয়সে সন্তান জন্মদানকারী মায়েরা ৫০ শতাংশ মৃত শিশু জন্ম দেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।