পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার দুপুর সোয়া ১১টার দিকে উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ কাজের সূচনা করেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিকাপ্টারযোগে পাবনার রূপপুর গিয়ে পৌঁছান। তিনি সরাসরি যান প্রকল্প এলাকায়। পাঁচ বছরের মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট ও পরবর্তী এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরো এক হাজারসহ দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণ শুরু হয়েছে। প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে এক টাকারও কম।

প্রধানমন্ত্রী বিকেলে রূপপুর আনবিক প্রকল্প মাঠে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থল থেকে পাবনা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন।

প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশ ২৯তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বের ইতিহাসে নাম লেখাবে। প্রকল্পের অধীনে দুটি ইউনিট থাকবে। প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে এক হাজার মেগাওয়াট। ইউনিট দুটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে দুই হাজার মেগাওয়াট।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অফিস ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, ১৯৬৩ সালে সর্বপ্রথম ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। অবশেষে বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।
রাশিয়া পারমাণবিক চুল্লির প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে। এর বর্জ্যও (স্পেন্ট ফুয়েল) তারা নিজ দায়িত্বে নিয়ে যাবে। এছাড়াও রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাশিয়া সহায়তা করবে।
ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের প্রায় এক হাজার মিটার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে ২৫৯ দশমিক ৯০ একর জমিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।