রাজধানীতে মসজিদের অর্ধকোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

রাজধানীতে মসজিদের অর্ধকোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ



নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

রাজধানীর আজিমপুর গোরস্তান শাহী মসজিদের উন্নয়ন তহবিলের প্রায় অর্ধকোটি টাকার হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তারা বর্তমান কমিটি বাতিলের দাবি তুলেছেন। এজন্য এলাকায় ব্যাপক প্রচারপত্র বিলি চলছে।

ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর। এখানে মসজিদ নির্মাণের সূচনা ঘটে সুলতানি আমলে ১৪৫৭ সালে। তবে এখানে মসজিদের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে মূলত মোগলদের শাসনামলে। এই রাজধানী পত্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠে বেশকিছু মসজিদ।

দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাজের তদারকির জন্য ‘মসজিদ কমিটি’ করা হয়। সংশ্লিষ্ট মসজিদের মুসল্লিদের থেকে সমাজে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, এমন লোকদের নিয়ে এ কমিটি করা হয়।

ঢাকার প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে আজিমপুর গোরস্তান শাহী মসজিদ অন্যতম। প্রায় আট কাঠা জমিতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সাল থেকে ৩১ জনের কমিটি মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।

মসজিদটির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকা, সেক্রেটারি আবুল কাশেম মৃধা ও ক্যাশিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান।

মুসল্লিদের অভিযোগ, কমিটির বেশ কয়েকজনকে ‘হাত করে’ নজরুল ইসলাম মসজিদের তহবিল থেকে সাড়ে ৪৩ লাখ টাকা নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়েছেন। কয়েক মাস পার হওয়ার পরও এ টাকার হদিস নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুসল্লি নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “এটি মোটা দাগের হিসাব, তাই প্রকাশ হয়েছে। এ কমিটির লোকজনের কাছে মসজিদের নিয়মিত দানের অর্থের কোনো হিসাব নেই।”

নজরুল ইসলাম খোকা ব্যক্তিগত কাজে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বৃহস্পতিবার নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “মসজিদের টাকা আমি উত্তরা ব্যাংকের পিলখানা শাখায় মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছি। গত সপ্তাহে ৪৩ লাখ টাকা জমা হয়ে গেছে। এ নিয়ে আর কোনো সমস্যা নেই।” তবে মসজিদের নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।

তবে ক্যাশিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “কয়েক কোটি টাকার একটি অ্যাওয়ার্ড (সম্মাননা) পাওয়ার কথা বলে নজরুল ইসলাম খোকা মসজিদের হিসাব থেকে টাকা নিয়েছিলেন। আমরা তাকে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “নজরুল ইসলাম তার একটি ফ্ল্যাটের দলিলও মসজিদ কমিটিকে দিয়েছেন। সেটি বিক্রি করে টাকা নেয়ার কথা প্রথমে বলা হলেও পরে বলেছেন অ্যাকাউন্টে টাকা দেবেন। তাই তার ফ্ল্যাটের দলিল যেন ফেরত দেয়া হয়।”

সেক্রেটারি আবুল কাশেম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বিলি হওয়া প্রচারপত্রে বর্তমান কমিটির লোকজনকে ‘অসৎ ও অযোগ্য’ বলে উ্ল্লেখ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মসজিদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা হয় কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি ও ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে। বেশ কিছু দিন আগে ইসলামী ব্যাংকের নিউ মার্কেট শাখা থেকে মসজিদের তিন কোটি টাকার মেয়াদি সঞ্চয়ের টাকা উত্তোলন করেন তারা। এর পর ওই টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, তা মুসল্লিরা জানেন না।

মুসল্লিদের একটি সূত্র জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের পর মসজিদের অর্থের হিসাব নিয়ে কমিটির লোকদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সেটি হাতাহাতিতে পৌঁছে। সেখানে ছিলেন মসজিদ কমিটির হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট আলমগীর, অ্যাডভোকেট নুরুল্লাহ, সফিকুল হকসহ বেশ কয়েকজন।

মসজিদের বর্তমান কমিটি বাতিল, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ওয়াকফ এস্টেটের মাধ্যমে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর


এ সম্পর্কিত আরো খবর

জাতীয় এর অন্যান্য খবরসমূহ