দুদক বিল অসাংবিধানিক ও প্রতারণামূলক: টিআইবি

দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধিত) বিল ২০১৩-কে অসাংবিধানিক ও প্রতারণামূলক বলে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ বিলে সম্মতি না দিতে রাষ্ট্রপতির প্রতি আবেদন জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎও চেয়েছে তারা।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। এতে টিআইবির চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল ও উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের উপস্থিত ছিলেন।

সুলতানা কামাল বলেন, “ক্ষমতায় টিকে থাকতে যারা সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে তাদের সন্তুষ্ট রাখতে শেষ সময়ে এসে দুদক আইনে জনস্বার্থবিরোধী এ সংশোধনী আনা হলো।”

মূল বক্তব্য উপস্থাপনে ইফতেখার বলেন, “সংশোধিত বিলের সমালোচনার ভাষা আমাদের জানা নেই। আইনটির ৩২(২) ও ৩২ক ধারার প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া ও এ সংশোধনীর মর্মার্থ এক কথায় অসাংবিধানিক, বৈষম্যপরায়ণ, প্রতারণামূলক, আত্মঘাতী এবং গভীরভাবে হতাশাব্যঞ্জক।”

তিনি বলেন, “দুদক আইনের সংশোধনীর সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকেছেন, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা যোগাযোগ না করে পুরো বিষয়টি গোপন রেখে সংসদে পর্যাপ্ত বিতর্কের সুযোগ না রেখে কণ্ঠভোটের জোরে এবং জনমত ও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে বিলটি পাস করা হলো। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি বলেন, “১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাসকৃত বিলটির উল্লিখিত ধারায় ‘জজ, ম্যাজিস্ট্রেট এবং সরকারি কর্মচারীর’ বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়েরের পূর্বে সরকারের কাছ থেকে পূর্বানুমতির বিধান দুদকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১১৫ বছরের পুরনো ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯৭ এর প্রয়োগ দুদক আইনে অপরিহারয করায় উল্লিখিত পেশার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পূর্বে সরকারের পূর্বানুমতির প্রমাণ ছাড়া কোনো আদালতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিতে পারবে না।”

সংশোধনীকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আইনের চোখে সব নাগরিক সমান’। দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়া এই ধরনের পূর্বানুমতি সংগ্রহ করা যে কতটা অসম্ভব, তা বলা বাহুল্য। বিশেষ শ্রেণীর ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দিতে প্রদান করায়, সংশোধিত আইনটি কার্যত বৈষম্যমূলক বলে স্পষ্ট।”

সংশোধনীতে কিছু ইতিবাচক ধারা সংযোজন হয়েছে উল্লেখ করে ইফতেখার বলেন, “উল্লিখিত ধারা অন্তর্ভুক্তির ফলে যে বিরাট ঝুঁকির সৃষ্টি হলো তার তুলনায় ইতিবাচক ধারাগুলো নিতান্তই নগণ্য এবং এটি এখন সুস্পষ্ট যে, নতুন সংশোধনীর ফলে দুদক একটি নখদন্তহীন বিড়ালে পরিণত হবে।”

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও সরকারকে সংশোধনীর জন্য বিব্রত হতে হবে। এরই মধ্যে বেশকিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এই মহলের কাছ থেকে এসেছে। ফলে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এক সপ্তাহের মধ্যে পানামায় অনুষ্ঠেয় কনভেনশন বাস্তবায়নে অগ্রগতি পর্যালোচনামূলক রাষ্ট্রসমূহের বৈঠক এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এ সংশোধনীর কারণে সরকারকে কঠিন বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হবে। এক্ষেত্রে বাক্যবানের মারপ্যাচে উত্তরণের কোনো উপায় থাকবে না।”

টিআইবি জানায়, দুদক সংশোধনী বিলের (২০১৩) ৩২(২) ও ৩২ক ধারাতে সম্মতি না দিতে গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে রাষ্ট্রপতির সময়ও চেয়েছে টিআইবি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।