কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আবদুল কাদের মোল্লার ফাসিঁর রায় কার্যকর সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই প্রথম কারো ফাঁসি কার করা হলো।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর জামায়াতের এই নেতাকে যাবজ্জীবন সাজা থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ।
এরপর দীর্ঘ তিন মাস পর গত ৫ ডিসেম্বর  মোট ৭৯০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আদালত।
রায়ে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ চার বিচারপতি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে মত দেন। একজন দ্বিমত পোষণ করেন।

প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন ছাড়াও আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি হলে- বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা, বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

আপিল শুনানি শেষের প্রায় ৫৬ দিন পর এ রায় ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের আপিল বিভাগ রায়ের জন্য এ দিন ধার‌্য করেন।
বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
৬টি অভিযোগের মধ্যে  ৫টি অপরাধে দায়ী করে দু’টিতে যাবজ্জীবন ও তিনটিতে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেন। একটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি উল্লেখ করে ওই অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়।
সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দণ্ড না দেয়ায় এবং একটি অপরাধের অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়ায় সাজা বাড়ানোর জন্য এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ৩ মার্চ আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। আপিলে ওই ৫টি অভিযোগে দেয়া সাজা অপর্যাপ্ত দাবি করে এবং খালাসের আদেশ বাতিল চেয়ে সর্বোচ্চ দণ্ড ফাঁসির আরজি জানানো হয়।
অন্যদিকে  ৪ মার্চ কাদের মোল্লার খালাস চেয়ে আপিল করে আসামিপক্ষ।
গত ১ এপ্রিল থেকে কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়। এর মধ্যে ১ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এবং ৬ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মোট ১৪ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সমন্বয়ক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। অন্যদিকে ২৯ এপ্রিল থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ১৮ কার্যদিবসে আসামিপক্ষে শুনানি করেন ডিফেন্সের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
এ আপিলে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ মিলে সর্বমোট ৩৯ কার্যদিবস তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এতে সাত অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্যও নেন আদালত।
একাত্তর সালে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর কাদের মোল্লাসহ কয়েকজন জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়। এছাড়া ২০০৮ সালে পল্লবী থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়।  এ মামলাতেই ২০১০ সালের ১৩ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এরপর ২০১১ সালের ১ নভেম্বর কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যা, খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
গতবছর ২৮ মে ট্রাইব্যুনাল-২ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত ছয়টি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
এরপর উভয়পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, সাক্ষীদের জেরা, যুক্তি উপস্থাপনসহ প্রায় ৮ মাস ধরে মামলার কার‌্যক্রম পরিচালিত হয়।
পরে চলতি বছর ১৭ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়ে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।