নির্বাচনী ব্যয় না জানালে ৭ বছরের জেল

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের খরচের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা না দিলে প্রার্থীর দুই থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে। এজন্য সরকারিভাবে ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে সব প্রার্থীকে।

ব্যয়ের হিসার জমা দেয়ার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়ে ইসির জারি করা এক পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

উপ-সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হবে। এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এবং সব পরাজিত প্রার্থীকেও তার ব্যয়েব হিসাব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও এর এফিডেভিটের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে ডাকযোগে পাঠাতে হবে।

এজন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা সব প্রার্থীকে ব্যয়ের হিসাব দাখিল করার কথা জানিয়ে দেবেন। এরপরও কোনো প্রার্থী এ আদেশ লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে দুই থেকে সাত বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেই কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই আইন অমান্যকারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করবে বলে পরিপত্রে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবসহ নির্বাচনী দলিল, দস্তাবেজ রিটার্নিং কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন। এ দলিল দস্তাবেজ জনসাধারণের জন্য একশ’ টাকা ফি প্রদান সাপেক্ষে উন্মুক্ত রাখা হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে, প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয় করার জন্য পৃথক একটি ব্যাংক হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক। পৃথক ব্যাংক হিসাব থেকেই প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয় করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি খাতে ব্যায়ের ভাউচারসহ মোট হিসাব রিটানিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করারও বিধান রয়েছে।

তবে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যায়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। এর বেশি কোনো প্রার্থী ব্যয় করতে পারবেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।