আশরাফের বক্তব্য দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতিতে আত্মসমর্পণের শামিল: সুজন

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের হলফনামা-বিষয়ক এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, “মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির প্রতি আত্মসমপর্ণের শামিল।”

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক এসব কথা বলেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ নির্বাচনী হলফনামাকে রাজনীতিকদের চরিত্র হরননামা বলে উল্লেখ করেছেন। হলফনামা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্য দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নগ্রস্ত রাজনীতির প্রতি আত্মসমর্পণের শামিল।” হলফনামা সংশোধনের উদ্যোগ থেকে থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সুজন সম্পাদক আরো বলেন, “মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও তাদের পরিবারের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু তারা তা করেনি।”

এ সময় তৃতীয় দফার উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রকাশ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন।

সুজনের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিতব্য ১৫ মার্চ ৮৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মামলা আছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অর্ধেকের বেশির (৫২ দশমকি ৪২ শতাংশ) পেশা ব্যবসা।

সুজনের সহযোগী সমন্বয়কারী সনজিদা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী ৪৩৪ জন। এর মধ্যে ৩৯৩ জনের তথ্য পেয়েছে সুজন। এতে দেখা যাচ্ছে, ২১০ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর, এসএসসি পাস ৫৩ জন, ৪৮ জন এইচএসসি পাস এবং ৭৮ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে।

এসব প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে মামলা রয়েছে ১১৮ জনের বিরুদ্ধে (৩০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ)। ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ২৭৮ জনের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকা বা তার নিচে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।