উপজেলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা অনেকাংশেই ক্ষুণ্ন: ইডব্লিউজি

গত ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত তৃতীয় পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনে বহুসংখ্যক কেন্দ্রে ব্যাপক সহিংসতা, ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অন্যান্য সহিংসতার কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা অনেকাংশেই ক্ষুন্ন হয়েছে এবং  এ নির্বাচনে ৬৪.৬ শতাংশ ভোট পড়েছে দাবি করেছে ২৭টি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি)।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আয়োজিত নির্বাচন পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন ইডব্লিউজির পরিচালক ড. মো. আব্দুল আলীম।

এ সময় তিনি আরো বলেন, তৃতীয়পর্বে ইডব্লিউজি ৮১টি উপজেলার সবগুলোতে ২৩৩৬ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে। ব্যাপক-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণে ইডব্লিউজি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতকরণ এবং খোলার সময়কাল, ভোটগ্রহণ কার্যক্রম, ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের সমাপ্তি, ভোটগণনা এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে ড. আলীম বলেন, পর্যবেক্ষিত ভোটকেন্দ্র গুলোতে ভোট গ্রহণ শুরুর সময়ে ৫৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে ১-২০ জন ভোটারের উপস্থিতি লাইন পরিলক্ষিত হয়েছে। পর্যবেক্ষিত ১২ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে ২৭০টি ঘটনা লিপিবদ্ধ করেন যেখানে প্রতিবন্ধী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান এবং প্রস্তুতিতে ত্রটি থাকার কারণে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সমস্যার সম্মুখীন হন। পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী মাত্র ৬৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

পর্যবেক্ষকরা ৫৪টি উপজেলার ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ২৫৮টি ঘটনা ও ৩৮টি উপজেলায় ১৪৩ জন ভোটারদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা লিপিবন্ধ করেছে। আইন অমান্য করে নির্বচনের সময় ৩৪টি উপজেলায় ৮৭টি নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনা ঘটে। ১০টি উপজেলায় ভোটারদেরকে ভোট প্রদানে বাধা প্রদানের ১৪টি ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ৭৭টি ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোতে পোলিং এজেন্টেদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয় এবং ভোট কেন্দ্রের ভেতরে ৪০টি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। পাশপাশি সাতটি উপজেলার আটটি কেন্দ্রে ইডব্লিউজির পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ করতে এবং ৪৯টি উপজেলার ৯০টি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের ভোট গণনা প্রক্রিয়া দেখতে দেয়া হয়নি।

আলীম আরো বলেন, লাঙ্গলকোট উপজেলার একটি কেন্দ্রের ব্যালট পেপার পার্শ্ববর্তী অন্য একটি কেন্দ্রে এনে একসঙ্গে গণনা করা হয়, অন্যদিকে দাঁগনভুইয়ার একটি কেন্দ্রে ৩:৩০ মিনিটে ভোট গণনা শুরু করা হয়। গৌরীপুরের একটি ভোট কেন্দ্রে গণনার সময় সংক্ষুব্ধ জনতা ব্যালট পেপার জোর করে নিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১৩ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে গণনার পর প্রিসাইডিং অফিসারগণ কেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী ফলাফল টাঙ্গিয়ে দেননি।

এ সময় ইডব্লিউজির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ডেমক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী প্রধান তালেয়া রহমান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ’র প্রেসিডেন্ট এএইচএম নোমান, জানিপপের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ও লাইট হাউসের নির্বাহী প্রধান মো. হারুন-অর- রশিদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।