সহিংসতা, অনিয়ম-কারচুপির আশঙ্কার মধ্যেই ৭৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে

এবার আরো বেশি সহিংসতা, অনিয়ম ও কারচুপির আশঙ্কার মধ্যেই সোমবার চলছে পঞ্চম ধাপে ৩৪ জেলার ৭৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণ।  সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে টানা বিকেল চারটা পর্যন্ত।

ভোট শুরুর আগে লক্ষ্মীপুর সদরে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে বিরোধী জোটের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে ইসিতে আবেদন করেছেন অনেক প্রার্থী। বরাবরের মতো এবারো প্রার্থীদের অভিযোগ তোয়াক্কা করছে না নির্বাচন কমিশন।

চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপ কিছুটা শান্তিপূর্ণ হলেও তৃতীয় ধাপ থেকে সহিংসতা ও অনিয়ম বাড়তে থাকে। চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা যেমন বাড়ে তেমনি অনিয়মের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। প্রথম চার দফায় সহিংসতায় সারা দেশে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় পঞ্চম দফায় আরো বেশি সহিংসতা ও অনিয়মের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী এলাকা সেনা, বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ অন্য সংস্থার সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।  ভোটের দিন এসব এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে ইসি।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চম ধাপের ৩৪ জেলার ৭৩ উপজেলায় এক হাজার ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৬২ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১৮ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব উপজেলায় মোট ভোটার এক কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ২৬৯ জন, মহিলা ভোটার ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৪০টি, ভোটকক্ষ ৩৭ হাজার ৩১৪টি। প্রিসাইডিং অফিসার প্রতি ভোট কেন্দ্রে একজন করে পাঁচ হাজার ৫৪০ জন। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে মোট ৩৭ হাজার ৩১৪ জন এবং পোলিং অফিসার সংখ্যা ৭৪ হাজার ৬২৮ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

যেসব উপজেলায় ভোট হবে
পঞ্চম দফায় যে ৭৩ উপজেলায় নির্বাচন হবে সেগুলো হলো- দিনাজপুর জেলার বিরল, পার্বতীপুর ও হাকিমপুর, নীলফামারী জেলার ডোমার, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ, গাইবান্ধা  জেলার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ। বগুড়া জেলার বগুড়া সদর, রাজশাহী জেলার পবা, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি ও শাহজাদপুর।

পাবনা সদর ও বেড়া, চূয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা ও চূয়াডাঙ্গা সদর, সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও তালা, বরগুনা জেলার বামনা, পাথরঘাটা, বরগুনা সদর ও আমতলী, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা ও কলাপাড়া, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও গোপালপুর, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও, ত্রিশাল ও নান্দাইল।

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম ও পাকুন্দিয়া, মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ী, সিরাজদিখান ও লৌহজং, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ, নরসিংদী জেলার মনোহরদী, নরসিংদী সদর ও রায়পুরা, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ।

সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর, সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী ও রাজনগর, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা, আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ও চান্দিনা।

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়া, লক্ষীপুর জেলার রামগতি, লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ ও রায়পুর, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ, কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও উখিয়া, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা, রাঙ্গামাটি জেলার রাঙ্গামাটি সদর, লংগদু, রাজস’লী ও বিলাইছড়ি এবং গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।