১৪৯টি সোনার বারসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তাসহ গ্রেফতার ৪

রাজধানী ঢাকার  রামপুরা থানার তিন পুলিশসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের থেকে ১৪৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে রাজধানীর বাইরে তিনটি জেলা শহরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রামপুরা থানার এসআই মঞ্জুরুল আলম, দুই কনস্টেবল ওয়াহিদ ও আকাশ। অপরজন তাদেরই সোর্স রানা। এছাড়া জিজ্ঞাসবাদের জন্য রানার স্ত্রী এবং গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, গত ১৩ মার্চ বনশ্রী এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি দেখে সামনে থাকা একটি মাইক্রোবাস দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বনশ্রী এলাকার একটি গলিতে প্রবেশ করে মাইক্রোবাস থেকে নেমে দুইজন দৌড়ে পালাতে গেলে তাদেরকে আটক করা হয়। এরা হলেন সমীর ও মুহিন।

ঘটনার তিন দিন পর বনশ্রী এলাকায় ১৩ মার্চের কর্তব্যরত পুলিশ রামপুরা থানায় ৭০টি সোনার বার উদ্ধার দেখিয়ে চোরাচালান মামলা করে। এতে আসামি করা হয় মাইক্রোবাস আরোহী সমীর ও মুহিনকে। তাদেরকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নেয়ার পর তারা জানায়- সোনার বার ৭০টি নয়, আরো বেশি ছিল।

ডিবির উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বরের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি গোয়েন্দা দল বিষয়টি অনুসন্ধানে নামে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক তিনটি দল একযোগে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বগুড়ায় অভিযান চালায়। চারজনকে গ্রেফতারের পর উদ্ধার করা হয় ১৪৯টি সোনার বার।

ডিবি জানায়, ১৩ মার্চ বনশ্রী এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে সোনার বার নিয়ে শাখারীবাজারে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাইক্রেবাবাসটি পেছনে পুলিশের গাড়ি দেখে তাড়াহুড়ো শুরু করলে পুলিশ এগিয়ে যায়। তখন আরোহীরা মাইক্রোবাস নিয়ে বনশ্রীর একটি গলির ভেতরে প্রবেশ করে পালাতে গেলে দুইজনকে আটক করা হয়।

রামপুরা থানায় দায়ের করা মামলায় ৭০টি সোনার বার উদ্ধার দেখানো হয়।

ডিবির গণমাধ্যম শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) আবু ইউসুফ জানান, গ্রেফতারকৃত তিন পুলিশকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া রামপুরা থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ও পরিদর্শক (তদন্ত) নাসিম আহমেদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।