দুই শিফটে আদালত চালুর প্রস্তাব ‘অভিনব’: আইনমন্ত্রী

ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে উচ্চ ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম ‘দুই শিফট’ বা ‘সান্ধ্যকালীন’ কোর্ট চালুর সুপারিশকে অভিনব প্রস্তাব বলে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

বুধবার বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে  যুগ্ম জেলা জজ ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য ১২২ তম  এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এছাড়া মন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এবং দেশের মানুষের মৌলিক বিশ্বাসে আঘাত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সব ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে এটা সঠিক নয়।

সান্ধ্যকালীন কোর্সকে বাস্তবসম্মত উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা না বলে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।

বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে কর্মশালা শুরু হয়।

প্রসঙ্গত,  গত ৩১ মার্চ আইন বিচার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত  সাংবাদিকদের বলেন, “উচ্চ ও নিম্ন আদালতে প্রায় ২৬ লাখ মামলা আটকে আছে। মামলার এই ব্যাকলক দূর করতে বিচার ব্যবস্থার আপডেট প্রয়োজন। আর এর জন্য বর্তমানে যে সংখ্যক বিচারক আছে তাতে চলবে না।”

ভারতের মাদ্রাজ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “মাদ্রাজ ও পশ্চিমবঙ্গে সান্ধ্যকালীন কোর্ট চলে। আমাদের নিম্ন আদালতে এটা করার জন্য আইন লাগবে না, তবে উচ্চ আদালতের জন্য প্রয়োজন হবে।”

তবে আদালতে দুই শিফট চালু করতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এ প্রস্তাবকে পাগলামি, হাস্যকর ও নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এ প্রস্তাবকে দেশের সাধারণ মানুষকে নতুন করে ধোঁকা দেয়ার যড়যন্ত্র বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।