রাজধানীতে মাদক মামলায় দুই মাসে ৬৪১ জনের দণ্ড

ঢাকা মহানগর পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গত দুই মাসে ৬৩১টি মামলা হয়েছে। এতে ৬৪১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তার তথ্য মতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৩১টি মাদক মামলায় ৬৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩টি মামলায় ১৫৩ জনকে এক বছরের কারাদণ্ড, ৪০২টি মামলায় ১২ জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৭৬টি মামলায় ৭৬ জন আসামীকে ছয় মাসের নিচে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আসামিদের থেকে উদ্ধারকৃত মাদক দ্রব্যের মধ্যে ছিল মদ, হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ইত্যাদি।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল দাবি করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তৎক্ষণিক প্রমাণ সাপেক্ষে মাদক ব্যবসায়ীদের সাজা দেয়ায় মাদক ব্যবসায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসায় আগ্রহ হারাচ্ছে।

তিনি বলেন, “কৌতূহল, বন্ধু বান্ধবদের চাপ, পারিবারিক কলহ, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারনে মানুষ মাদক সেবনের দিকে ধাবিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন ব্যক্তি হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশীয় মদ ও বিভিন্ন ধরনের ইনজেকশন নিয়ে থাকে।

মাদক দ্রব্যগুলোর মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেট আসে কক্সবাজার রুট হয়ে, ফেনসিডিল আসে সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাদহ, মেহেরপুর রাজশাহী, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী রুট হয়ে। মাদক সেবনের কারনে পারিবারিক অশান্তি ও কলহ-বিবাদ, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটে থাকে বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

যুগ্ম কমিশনার বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি দিনের বিশেষ সময়ে বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, রাতে না ঘুমানো, দিনে ঝিমুতে থাকে, খাবার গ্রহণে অনীহা প্রকাশ টাকার অতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করা, বিভিন্ন সময়ে মন মেজাজের পরিবর্তন, ও আচারনগত পরিবর্তন এলে বুঝতে হবে ওই ব্যক্তি মাদকাসক্তে আক্রান্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।