এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে বিদ্যুৎ করিডোরের বিনিময়ে কী পাবে বাংলাদেশ?

ভারতের এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করার যে অনুমতি দিয়েছে সরকার, তাতে বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের বক্তারা। তারা বলেছেন, ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেয়ার সব তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। তা না হলে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্ন থেকেই যাবে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে আলোচকরা এসব কথা বলেন। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।

সংলাপের প্রশ্ন ছিল- ভারতের এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করার যে অনুমতি দেয়া হয়েছে, তা সমর্থনযোগ্য কি না।

ড. ওসমান ফারুক বলেন, “ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেয়া হলে বাংলাদেশ কী পাবে তা পরিষ্কার নয়। এটা আগে পরিষ্কার করে সবাইকে জানাতে হবে।”

জনগণকে জানানোর ব্যাপারে সরকারের মধ্যে স্বচ্ছতা নেই দাবি করে ফারুক বলেন, “বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ করিডোর দেয়া হলে বাংলাদেশের উজানে ভারত যেসব নদীতে বাঁধ দিয়েছে, সেগুলো খুলে দিতে হবে। আমরা করিডোর দেব, কিন্তু এর বিনিময়ে পানি চাই।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বিদ্যুতের করিডোর দেয়া বাংলাদেশে একটি ব্যতিক্রমী ব্যাপার। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের যে কটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা করা হয়নি। এ কারণে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ও সন্দেহ দেখা দেয়।”

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ চুক্তির তথ্যগুলো সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশ লাভবান হলে ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেয়া দরকার।”

নাজনীন আহমেদ বলেন, “করিডোর দেয়ার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে এখনো স্বচ্ছ কোনো ধারণা নেই। কেবল সন্দেহ বাড়ছে। দেশের মানুষ বিদ্যুৎ করিডোর দেয়ার বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা পেতে চায়।” বিদ্যুৎ করিডোর চুক্তির যাবতীয় তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট বা গণমাধ্যমে জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “বিদ্যুৎ করিডোর দেয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ভারতের সঙ্গে আমাদের নেগোসিয়েশন হলেই আমরা করিডোর দেব।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “করিডোর দেয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কিছু বিদ্যুৎ চেয়েছে। এ ছাড়া নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের যে পরিকল্পনা আছে, সেখানেও ভারতকে করিডোর দিতে হবে। এই বিষয়গুলো আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।”

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।