তিস্তা ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান

ভারতের কাছ থেকে তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার তিন দিনের রোডমার্চ শেষ হয়েছে। রোডমার্চ সমাপনী সমাবেশে বক্তারা তিস্তা ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যাহয়ে তুলে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টের লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী সাধুর বাজারে সমাবেশের মধ্য দিয়ে রোডমার্চ শেষ হয়।

সমাবেশে তিস্তা থেকে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কঠোর সমালোচনা করে  বক্তারা তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে  স্বাধীন অবস্থানে থেকে জোরালো কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে প্রয়োজনে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সমাবেশে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১৬ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ যাত্রা এবং মে মাসে একই দাবিতে জাতীয় কনভেনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

মঙ্গলবার ঢাকায় সমাবেশ শেষে রোডমার্চ শুরু হয়। বগুড়া ও রংপুর হয়ে রোডমার্চটি বৃহস্পতিবার বিকেলে তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

এর আগে সকালে রোডমার্চটি রংপুর প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বের হয়ে রংপুর ডালিয়া প্রধান সড়কের রংপুরের পাগলাপীর, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চন্দনের হাট, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া মোড়,জলঢাকা উপজেলার বড়ভিটা ও জলঢাকা উপজেলা শহরের ট্রাফিক মোড়ে  পথসভা করে।

বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রোডমার্চটি তিস্তা ব্যারাজ অতিক্রম করে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী সাধুর বাজারে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পানির অভাবে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। ভারত তিস্তা নদীর উজানে গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় উত্তরাঞ্চলে কৃষি খাতে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। পানির অভাবে তিস্তা সেচ প্রকল্প অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

নীলফামারী জেলা বাসদের সভাপতি আব্বাস আলী সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয়  সমন্বয়ক  আব্দুস ছাত্তার, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা  শুভ্রাংশু  চক্রবর্তী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতির প্রধান সম্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা হামিদুল হক, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রশনী শিখা জামালী প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।