‘জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।’ এই প্রতিপাদ্যে বাঙালির প্রাণের মঙ্গল শোভাযাত্রা

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এতে প্রাণের অভিব্যক্তি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এবার বাঙালির প্রাণের আকুতি যে অন্য জায়গায় উৎসবের স্লোগানেই তা বুঝা যায়।  মঙ্গল শোভাযাত্রার এভারের প্রতিপাদ্য- ‘জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।’ এই প্রতিপাদ্যে বাঙালির প্রাণের কথাটাই বলতে চেয়েছেন আয়োজকরা।

আর্থ-সামাজিক আর রাজনৈতিক বিবেচনায় এখন দেশে এক রুদ্ধশ্বাস অবস্থা। তাই এখন বাঙালির জেগে উঠার সময়, নির্ভিক চিত্তের হওয়ার সময়। মুক্তপ্রাণ, মুক্ত পরিবেশ আর সমৃদ্ধির পথ আগলে দাঁড়ানো দানবের সামনে কিছুটা উদ্যত হওয়ারই সময়।

জাতির এই দুঃসময়ে তাই মঙ্গলযাত্রায় ছিল হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের দুঃসময়ের কাণ্ডারির প্রতীক হিসেবে ‘গাজী ও বাঘ’। কাণ্ডারিতে যদি বর্তমান রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মেলে- এটাই যেন এবারের বৈশাখী উৎসবে প্রাণের আকুতি।

অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা, সামরিক স্বৈরশাসনকে ‘না’ বলে যাত্রা শুরু করা এই মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফের সূচিত হবে জাতির মুক্তির পথচলা। তাই হয়তো বেসামরিক স্বৈরশাসনকেও না বলার প্রত্যয়ে ফের বাঙালি জাগ্রত হতে এবং কিছুটা উদ্যত হতে নির্ভয়ে যোগ দিয়েছে এই শোভাযাত্রায়।

এছাড়া সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রত্যাশায় লোকজ ঐতিহ্যের নানা প্রতীক স্থান পেয়েছে এই শোভাযাত্রায়। সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে লক্ষ্মীপেঁচার পাশাপাশি শিশু হরিণ, মা ও শিশু, হাঁস ও মাছের ঝাঁক স্থান পেয়েছে।

নববর্ষে বাঙালির বর্ষবরণের কেন্দ্রীয় আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত এই শোভাযাত্রা সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় শুরু হয়। চারুকলার সামনে থেকে শুরু হয়ে রূপসী বাংলা হোটেল মোড় ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) হয়ে ফের চারুকলায় এসে শেষ হয় শোভাযাত্রা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রো-ভিসি সহিদ আকতার হোসাইন, কোষাধ্যক্ষ মো. কামাল উদ্দিন, চারুকলা অনুষদের ডিন আবুল বারক আলভী, প্রক্টর আমজাদ আলী এতে অংশ নেন।

এছাড়া ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এবং নেচে-গেয়ে যেখানে অংশ নিয়েছে সব বয়সের সব শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ। নানা রঙের নতুন পোশাক আর রঙিন সব আয়োজনে শাহবাগ থেকে শুরু করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বর্ণিল রূপ ধারণ করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।