রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ছাড়া বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ছাড়া বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ওবামা প্রশাসনের এক শীর্ষ ব্যক্তি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিশওয়াল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আরও বৃহৎ রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকরণের কথা বলে আসছে। কারণ এ ছাড়া বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়বে।  হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

একই সময়ে আর্থ-সামাজিক খাতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি লাভ করেছে সে বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের উদার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও আবহাওয়া পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার গৃহীত তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পই প্রয়োগ করা হয়েছে- এমন একমাত্র দেশ হলো বাংলাদেশ।

গত ২০ বছরে বাংলাদেশে ‘আন্ডার ফাইভ মর্টালিটি’র হার ৬০ শতাংশে নামিয়ে আনার কাজে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মার্কিন সংস্থা ইউএসএইড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলেও জানান নিশা।

তিনি বলেন, “শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার সম্পর্কিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মার্কিন প্রশাসনের সহযোগিতায় যে কয়েকটি দেশ বর্তমানে সঠিক পথে রয়েছে বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম।”

তিনি আরো বলেন, “একথা স্বীকার করতেই হবে যে দেশটির নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য, খাদ্যের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতির কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”

বাংলাদেশের শিল্পখাতে বিপর্যয়ের প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা বলেন, “রানা প্লাজা ধস এবং তাজরীন কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনার কারণে সারা বিশ্বের নজর গিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের ওপর। তখনই বাংলাদেশের পোশাক খাতে বৃহত্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে ইউরোপীয় সঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশটির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অর্থাৎ শ্রমিক, কারখানা, সুশীল সমাজ এবং সরকারের সহযোগিতায় তীব্রভাবে উন্নয়ন প্রচেষ্টা চালাতে শুরু করেছি।”

তিনি বলেন, “নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টিতেও গত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এগিয়েছে। শুধু আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনেই যে বাংলাদেশ ও নেপাল বিশাল অবদান রাখছে তাই নয়, বরং সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাস নিরসন এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্তাপনার (এইচএডিআর) ক্ষেত্রেও দেশ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি সামলে নেয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ ও নেপালের দিকেই আমেরিকা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নিশা আরো বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ কমাতে আমরা ২০০১ সালের পর থেকে দেশটিতে পাঁচশ’রও বেশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ইতিমধ্যেই আমরা মার্কিন কোস্ট গার্ডের একদল সদস্যকে পাঠিয়েছি যারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দুর্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”

এছাড়াও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে বাংলাদেশ চমৎকার অগ্রগতি দেখিয়েছে এবং বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এদিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলতে শুরু করেছে দেশটি।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।