বৃদ্ধি পাচ্ছে গুম-অপহরণ, জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক

সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ আর গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান৷ এমনকি এর ফলে শাসক দলের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷

রোববার নারায়ণগঞ্জের এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ পাঁচজনকে অপহরণের প্রায় একই সময় ওই একই এলাকা থেকে একজন আইনজীবী এবং তার সহকারী অপহৃত হন৷ ভালুকায় দুই শিক্ষককে হাড়কড়া পরিয়ে অপহরণ করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে সোমবার৷ শনিবার আটটি পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে এক বছর আগে অপহৃত স্বজনদের উদ্ধারের দাবি জানায়। এর আগে ‘বেলা’-র সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিকের অপহরণের ঘটনায় সারাদেশে তোলাপাড় হয়৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। কিন্তু কারা অপহরণ করেছিল-তা এখনো জানা যায়নি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুয়ায়ী, চলতি বছরের সোমবার পর্যন্ত গত প্রায় চার মাসে মোট ৫২ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বাংলাদেশে৷ কেন্দ্রের পরিচালক ও মানবাধিকার নেতা নূর খান জানান, অপহৃতদের পরিবারের বড় একটি অংশের অভিযোগ যে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে অপহরণ করা হয়েছে৷’

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ আর গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷ মানুষ এখন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন৷”

তিনি বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উচিত হবে তাদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া৷ নয়ত আইন এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে৷”

ড. মিজান বলেন, “রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা দেয়া৷ তাই সেটা দিতে না পারলে সরকারের প্রতিও দেশের মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হবে৷”

এদিকে এই অপহরণ আর গুমের ঘটনায় উদ্বিগ্ন খোদ শাসক দলের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি৷ তিনি সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “গুম ও অপহরণ সীমা অতিক্রম করেছে।”

তিনি বলেন, ‘‘সরকারের বাইরে আরেক সরকার থাকলে তো চলবে না! এখানে দুর্বলতা দেখানো যাবে না, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে৷ ক্রমাগত এ জাতীয় অপহরণ ও গুম আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত নয়৷ মানুষ আইনের কাছে যায় বিচারের আশায়৷ সেখান থেকে অপহরণ হলে আইনের শাসন বৃথা হয়ে যাবে৷ এছাড়া আইনজীবী, যিনি অফিসার অফ দ্য কোর্ট, তিনি সরকারেরই লোক৷ তাকেও অপহরণ করা হয়েছে৷ এখানে নমনীয় হওয়া যাবে না৷ সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দোষীদের জনতার সামনে আনতে হবে৷”

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘এই অপহরণের পর আইনের শাসনে বিশ্বাসী মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘দেখি নাই, জানি না, বুঝি না’ – এগুলো বললে চলবে না৷ এটা কোনোভাবে আইনের শাসন নয়৷ এর পেছনে যারা আছে, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে৷”

মানবাধিকার নেতা নূর খান বলেন, ‘‘এইসব ঘটনায় অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা হতাশাজনক৷ তাই সরকারকে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রতিটি অপহরণ-গুমের ঘটনা তদন্ত করতে হবে৷ তাছাড়া অপহৃতদের উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে৷”

তিনি বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাদা পোশাকে অভিযান বন্ধ করতে হবে৷ আর যদি সাদা পোশাকে অভিযান চলেও, তাহলে তাদের সঙ্গে ইউনিফর্মড সদস্য থাকতে হবে৷” সূত্র: ডিডব্লিউ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।