দিগন্ত টিভি খুলে দেয়ার দাবি

দিগন্ত টিভি সাময়িক বন্ধের পর এক বছর হলেও এখনো খোলা হয়নি। যতদিন দিগন্ত টিভি খুলে না দেয়া হবে ততদিন সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে মাঠে থাকবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দিগন্ত টিভির সাময়িক নিষেধাজ্ঞারএক বছর ও সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের’ দাবিতে মৌন মানববন্ধনে তারা এ প্রশ্ন করেন। দিগন্ত টেলিভিশনের সাংবাদিক ও কর্মচারীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী বলেন, “এই সরকারের অবস্থা নদীতে লাশ ও মতিঝিলে লুটপাট। আর যে গণমাধ্যম পছন্দ হবে না তাদের বন্ধ করে দেয়া। তারা যতবারই ক্ষমতায় আসছে ততবারই এমন অবস্থা তৈরি করেছে।”

তিনি বলেন, “তারা মাহমুদুর রহমানকে আটক করেছে, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, আমার দেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বন্ধ করেছে, যাতে করে সরকারে অপকর্ম কোথাও প্রকাশ না পায়। তাই আমরা যতদিন সব বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া না হবে তত দিন আন্দোলন করে যাবো।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, “সাময়িক বন্ধের নামে সরকার প্রতারণা করে একের পর এক মিডিয়া বন্ধ করে আসছে।” আওয়ামী লীগকে একটি মিডিয়াবিরোধী দল বলে আখ্যায়িত করেন সিনিয়র এই সাংবাদিক।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ প্রথম ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে ২২২টি গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দৈনিক বাংলা, আনন্দ বিচিত্রাসহ সারাদেশে কয়েক হাজার গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে অন্যায়ভাবে দিগন্তসহ বেশ কিছু টিভি ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে।” সব বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সভাপতি শাহেদ চৌধুরী বলেন, “দিগন্ত, ইসলামিক টিভি ও চ্যানেল ওয়ান, আমার দেশসহ যেসব মিডিয়া বন্ধ হয়েছে সেখানে হাজার হাজার সংবাদিক-কর্মচারী বেকার হয়েছেন। কোনো কারণে গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া যুক্তিযুক্ত নয়।” তিনি বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি বলেন, “‘সাময়িক’ বন্ধ হলে সেটা একবছর হয় না। সেই সাময়িকের মেয়াদ কবে শেষ হবে।” সব গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে সংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে  গণমাধ্যম খুলে দেয়া না হলে সাংবাদিকরা রাজপথ ছাড়বে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেন এই সাংবাদিক নেতা।

দিগন্ত টিভির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, “গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করতে হলে, মানুষের মৌলিক অধিকার আদায় করতে হলে গণমাধ্যমের নিষিদ্ধতা প্রত্যাহার ও বন্ধগণমাধ্যম খোলা রাখতে হবে। তাই দিগন্ত টিভি খুলে সেই পথ সুগম করতে হবে।”

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন সাংবাদিক নেতা আব্দুল হাই শিকদার, এম এ আবদুল্লাহ, এমএ আজিজ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বাকের হোসেন প্রমূখ।

মানববন্ধনস্থলে দিগন্ত টিভি খুলে দেয়ার পক্ষে সংহতি স্বাক্ষর, দিগন্ত টিভির ক্যামেরায় তালা ও সাংবাদিকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।