খুনের ঘটনায় প্রশাসনের লোকজনও জড়িত: নজরুলের স্ত্রী

অপহরণের পর নিহত সিটি প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি দাবি করেছেন, তার স্বামীসহ সাত খুনের ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনও জড়িত। তিনি বলেছেন, “এত বড় একটা ঘটনা প্রশাসনের লোকজন জড়িত না থাকলে নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়।” মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ  কথা বলেন তিনি। তিনি ও তার পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে সেলিনা ইসলাম বলেন, “নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার না হলে সিদ্ধিরগঞ্জে কেউ নিরাপদ নয়। স্বামীর লাশ পাওয়ার পর দুই দিন হুমকি এসেছিল। এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। মামলার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ওদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি।”
সেলিনা হোসেন আরো বলেন, “নতুন পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি নজরুল ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল, সেই মামলার বিষয়েও ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।”
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নজরুলের শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, ভাই আব্দুস সালাম, শ্যালক সাইদুল ইসলাম এবং সম্প্রতি নূর হোসেনের চাচাতো ভাই মোবারকের দায়েরকৃত মামলার আসামিরা।
নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম গত কদিন র্যা বের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ মৌখিকভাবে করেছিলেন, তা লিখিত আকারে জমা দেন।
গত ২৭ এপ্রিল  নজরুল এবং তার চার সহযোগী তাজুল, লিটন, স্বপন ও জাহাঙ্গীর এবং নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইবরাহীম কাছাকাছি সময়ে অপহৃত হন। আদালত চত্বর থেকে দুটি গাড়িতে করে তারা বেরোনোর পর নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেটের সামনে থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে ছয়টি এবং পরের দিন আরো একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়।
শহীদুল জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে অপহরণের ঘটনা জানার পরপর আদমজীতে অবস্থিত র্যা ব-১১-এর দফতরে ছুটে যান তিনি। ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার তাকে সেখানে প্রায় ছয় ঘণ্টা বসিয়ে রেখে বিষয়টি নিয়ে ক্রমাগত ঠাট্টা-তামাশা করছিলেন। এরপর ওই কমান্ডিং অফিসারসহ  র্যা ব সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য শহীদুল ও তার মেয়ে সেলিনা ফতুল্লা থানায় গেলে পুলিশও মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরের দিন নূর হোসেন, হাজি ইয়াসিন মিয়া, হাসমত আলী, আমিনুল ইসলাম, আনোয়ার ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন সেলিনা। মামলার অভিযোগে সেলিনা জানান, প্রায় দুই মাস আগে মিজমিজি এলাকায় একটি সড়ক নির্মাণের কাজ নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার স্বামী নজরুলকে অপহরণ করেছেন নূর হোসেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।