দুর্বৃত্তদের টার্গেট বিকাশ এজেন্টরা!

শনিবার আবারো রাজধানীতে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার সেবা বিকাশের আরেক এজেন্টকে বন্দুকের মুখে রেখে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

পরিসেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশের কর্মচারীরা ইদানীং একের পর এক ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন এবং এর সর্বশেষ শিকার হলেন মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। আল-জেসুন রিসোর্টস লিমিটেডের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন প্রতিদিনই টাকা জমা দেয়ার জন্য খুচরা ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকের মধ্যে লেনদেনের কাজ করেন।

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা গিয়াস শনিবার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মতিঝিলের একটি শাখা ব্যাংকে যাচ্ছিলেন নিজের মোটর সাইকেলে করে। পথিমধ্যে রাজারবাগ এলাকায় তিনজন যুবক গিয়াসের পথ আটকান।

গিয়াস বলেন, “আমি আমার মোটর সাইকেলটি থামালাম আর সঙ্গে সঙ্গেই তারা আমাকে ঘিরে ফেলে। তারা আমার মাথায় একটি বন্দুক ঠেকিয়ে টাকাগুলো দিয়ে দিতে বলে।”

যুবকরা টাকাগুলো নিয়ে তাদের মোটর সাইকেলে করে মতিঝিলের টিএনটি কলোনির দিকে চলে যায় বলেও জানান তিনি।

গিয়াস আরো বলেন, “শনিবার অধিকাংশ ব্যাংক বন্ধ থাকে বলে টাকাগুলো জমা দিতে আমি মতিঝিল যাচ্ছিলাম। কিন্তু সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে আমি আমার বাড়ির কাছের শাখা ব্যাংকেই টাকা জমা দিই।”

গিয়াসের ধারণা, যখন থেকে ব্যাংকে নিয়মিত যাতায়াত করা শুরু করেছেন তিনি তখন থেকেই তাকে অনুসরণ করত ছিনতাইকারীরা।

গত এক মাসে বিকাশের এমন অন্তত তিনজন এজেন্ট ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।

গত ১৩ এপ্রিল রিকশায় করে যাওয়ার সময় রাজধানীর বাসাবো এলাকায় এনামুলকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার কাছে থাকা সাড়ে আট লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

একইদিন, গাজীপুরের তুরাগে ২২ বছরের যুবক রানা মিয়াকে গুলি করে তার কাছে থাকা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকাও ছিনিয়ে নেয় আরেকদল দুর্বৃত্ত।

এর কিছুদিন আগে, মিরপুরের একটি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে বের হওয়ার পর ব্যাংকের সামনেই এমন আরো একজন ডিস্ট্রিবিউটরকে গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বরিশালেও বিকাশেরই এক এজেন্টকে গুলি করে ৬০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।