সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই কোনো কিছুতেই : ফখরুল

সরকারের কোনো কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশকে ধ্বংস করছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দেয়ার পর এখন তারা নিজেরা নিজেদের কর্মীদের গুম-খুন করছে। আসলে তাদের এখন কোনো কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রন নেই। নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনা তার প্রমাণ।”

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।  এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন। দেশ গঠনে ও জনগণের কল্যাণে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, “সরকার নানাভাবে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তারা তা পারবে না। কারণ তার (জিয়াউর রহমান) নাম মানুষ হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছে।”

বিএনপির জন্ম অবৈধ- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি অবৈধ নয়। একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে ও রাষ্ট্রে নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপির জন্ম হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে বিলুপ্ত করে বাকশাল কায়েম করেছিলেন। সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছিলেন।”

জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবের খুনি-সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারাই আপনাদের নেতাকে খুন করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ যখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে পড়েছিল তখন তার (শেখ মুজিব) রক্ত ডিঙিয়ে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে আপনারা শপথ গ্রহণ করেছেন।”

জিয়াউর রহমান নয়, খন্দকার মোশতাক কোর্ট মার্শাল জারি করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, “আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।” শ্রমিকদের কল্যাণে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আওয়ামী লীগ যেখানে ব্যর্থ সেখানে জিয়াউর রহমান সফল। সে কারণেই তারা (আওয়ামী লীগ) জিয়াউর রহমানের নাম সহ্য করতে পারে না।”

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্প্রতি লন্ডনে দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “তিনি (তারেক) রাজনীতি ও ইতিহাসের বিষয়ে কথা বলেছেন। তা সঠিক না হলে যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা উচিত। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা গালিগালাজ ও কটূক্তি করছেন। এর কারণ তাদের হাতে যুক্তি নেই।” সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে নজরুল আরো বলেন, “ভোট চুরি করে যারা ক্ষমতায় আসে সেই সরকারের মন্ত্রীদের গলা মোটা করে কথা বলার কোনো অধিকার নেই। তাদের উচিত পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন  দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করা।”

এতে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জাফরুল হাসান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নাসিম, শ্রমিক নেতা সালাহ উদ্দিন প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।