আবারও অশান্ত হয়ে পড়েছে পাহাড়!

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ঢুকে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই জীবন বাঁচাতে তারা ত্রিপুরায় এসেছেন। পার্বত্য এলাকায় ‘শান্তি চুক্তি’ না হলে তারা বাংলাদেশে ফিরবে না। বৃহস্পতিবার এমন খবর দিয়েছে আগরতলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ পত্রিকা। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দিয়ে তিন দিন ধরে দুই শতাধিক বাংলাদেশী নাগরিক ত্রিপুরায় প্রবেশ করেছে। আরো চার শতাধিক প্রবেশের অপেক্ষায় জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও ত্রিপুরা রাজ্য নিরাপত্তারক্ষীরা ৮৪ জন বাংলাদেশীকে ধরে সেফহোমে রেখেছেন। আরো শতাধিক ত্রিপুরা বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তাদের একত্র করে পুশব্যাকের চেষ্টা করেছে বিএসএফ ও ত্রিপুরা প্রশাসন। সংবাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তের অপেক্ষারত বাংলাদেশীদের ঠেকাতে ত্রিপুরা রইস্যাবাড়ি সীমান্তের ২০৭০ নম্বর পিলার-সংলগ্ন এলাকা ও ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াবিহীন সব এলাকায় সীমান্ত সিল করে দিয়ে অতিরিক্ত প্রহরা জোরদার করেছে বিএসএফ।

রতন বিকাশ চাকমা, সুষেণ চাকমা, শান্তি চাকমা- তিনজনের নাম উল্লেখ করে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই বাংলাদেশী নাগরিকরা জানিয়েছেন, ইউপিডিএস নামের একটি সংগঠনের সদস্যরা চাকমা ও ত্রিপুরি জনজাতির ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। হাটবাজার পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। গুলি করে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাই প্রাণ বাচাঁতে তারা রাতের অন্ধকারে সীমান্ত ডিঙিয়ে ভারতে পাড়ি জমাচ্ছে। শান্তি চুক্তি না হলে এবং জীবন-সম্পত্তির নিরাপত্তা না পেলে তারা দেশে ফিরবেন না।

সংবাদের প্রতিবেদনটি বলা হয়েছে, জাতিগত সংঘর্ষে কেন্দ্র করে সীমান্ত ডিঙিয়ে ভারতে পালিয়ে আসা বাংলাদেশী নাগরিকদের একত্র করে গন্ডাছড়া মহকুমার তুই চাকমা ভিলেজের শিরিরচন্দ্রকারবারী পাড়া সিআরসি সেন্টারে রাখা হয়েছে। তবে তাদের কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী বা খাবারদাবার সরবরাহ করছে না ধলাই জেলা প্রশাসন ও গন্ডছড়া মহকুমা প্রশাসন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আরো চার শতাধিক বাংলাদেশী ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় জঙ্গলে অবস্থান করছে বলে তারা জেনেছে। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সীমান্তের ২০৭০ নম্বর পিলার-সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়াবিহীন এলাকায় সীমান্ত সিল করে দেয়ায় আর কোনো বাংলাদেশী ভারতে প্রবেশ করতে পারছে না।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়, বৃহস্পতিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের রইস্যাবাড়ির চার নম্বর ডাইক বিএসএফের বিওপির কমান্ডেন্ট ও বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি রুপসেনপাড়া বিজিবির কোম্পানি কমান্ডেন্টের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসএফের তরফে বাংলাদেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বলা হলে বিজিবি নাকি তাতে সম্মত হয়।
ত্রিপুরার ধলাই জেলা শাসক মিলিন্দের নির্দেশে বিএসএফ ও রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তের বিভিন্ন পাড়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ‘বাংলাদেশী’ চাকমা ও ত্রিপুরীদের একত্র করে বলে জানায় পত্রিকাটি। পরে বিএসএফের গাড়িতে করে ৪৪ জন পুরুষ, ২৩ জন মহিলা ও ১৭ শিশুসহ ৮৪ জনকে চাকমা ভিলেজের ক্লস্টার রির্সোস সেন্টারে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়। দু-এক দিনের মধ্যে বাংলাদেশীদের পুশব্যাক করার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উপসচিব ও বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার উপকমিশনারের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় পত্রিকাটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।