নির্বাচনের নামে সিলেকশনের সুযোগ নেই সংবিধান : ব্যারিস্টার রফিক

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, হাইকোর্টের কাছে নতুন নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রবীণ আইনজীবী  ‘সংবিধান মোতাবেক একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে, কোনো সিলেকশনে নয়।’ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) হিসেবে অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে লিখিত বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। নতুন নির্বাচন চেয়ে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, ‘ড.কামাল হোসেন আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছেন আমি তার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত পোষণ করছি।’
সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বস্তুত ৫ জানুয়ারি তথাকথিত যে নির্বাচন হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে তা নির্বাচন ছিল না। এটি ছিল একটি নির্বাচনী তামাশা। এটা যতটা না নির্বাচন ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল মনোনয়ন বা সিলেকশন।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো নির্বাচনের কথা ভাবা হয় না। সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, বিধি মোতাবেক একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে, কিন্তু সিলেকশনে নয়।’

রফিক-উল হক বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে হবে। আমাদের সংবিধান কখনো এ রকম নির্বাচনের কথা চিন্তা করে না, যে নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘আধুনিক গণতন্ত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের কথা চিন্তাও করা যায় না। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকার একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে পারে যার একটি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। আমিও প্রত্যাশা করি, অবিলম্বে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।’

এছাড়া প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি- দেশে এখনো সে পরিস্থিতি পূর্ণ বিকশিত হয়নি যে, পরিস্থিতিতে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’ ‘এমনকি উপজেলা নির্বাচনের মতো একটি নির্বাচনকেও ক্ষমতাসীন দল প্রভাবিত করেছে এবং হস্তক্ষেপ করেছে যদিও প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চেয়েছিলেন। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়। আমি মনে করি, কমপক্ষে আরো দুটি নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন অথবা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে’ যোগ করেন তিনি।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য গত ১২ মার্চ ড. কামাল হোসেন, এম আমির-উল ইসলাম, রফিক-উল হক, মওদুদ আহমদ, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন কিউসি ও বদিউল আলম মজুমদারকে নিয়োগ দেয় আদালত। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একক প্রার্থীকে নির্বাচিত করার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা কেন সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল।

রুলে ১০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইনসচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালাম সুপ্রিমকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। পরে ওই রিটের ওপর শুনানি শুরু হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।