বঙ্গোপসাগরের বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার

বাংলাদেশের জলসীমানায় বঙ্গোপসাগরের কর্তৃত্ব বিস্তারে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার। এই উপলক্ষে টেকনাফের সীমান্তবর্তী মংডু ও বুচিডং থানা বিধৌত মিইউ নদীর মোহনায় নৌবাহিনীর নিজস্ব ডকইয়ার্ডকে আরো আধুনিক করে সম্প্রসারণ করে নির্মাণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে দেশটি। মিইউ নদীর মোহনার গভীরতম স্থানকে এর মধ্যেই বিশেষভাবে সংরক্ষিত করেছে। এলাকাটিতে জনসাধারণের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

 
সীমান্তে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পালিয়ে আসা মিয়ানমারের নাগরিক সূত্রে এই সব তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানান, মিইউ নদীসংলগ্ন এলাকার রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারের ২৬টি গ্রামের বসতি উচ্ছেদ করে মিইউ নদীর নৌঘাঁটির পার্শ্ববর্তী ইয়াওয়ার্দি রেঞ্জে পাহাড়ের নিচে সুড়ঙ্গ (টানেল) তৈরি করা হচ্ছে। টানেলটি সামরিক স্থাপনার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় এলাকাবাসীরা মনে করছে, এসব আয়োজনকে এখান থেকেই বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের পশ্চিমাংশের টহল নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য মিয়ানমারের প্রস্তুতি মনে করছে। অপরদিকে আকিয়াব ও ইয়াংগুনের নেভাল ডকইয়ার্ডে সাবমেরিন তৈরির আয়োজন চলছে, নাকি পশ্চিমাঞ্চলীয় বাহিনীর জন্য কেনা সাবমেরিনের ঘাঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি আরকানের পাউলি থেকে টংগু পর্যন্ত পাহাড়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং কুলাডাইঙ্গা নদীতে সেতু বসিয়ে প্রায় ২০০ লোমিটার পাহাড়ি রাস্তা কমিয়ে আনতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে। এই কাজ উত্তর কোরিয়ার প্রোকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে বিশেষভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে।

নবনির্মিত এই নৌবাহিনীর নিজস্ব ডকইয়ার্ড আধুনিক তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এর আগে গত মার্চের শেষদিকে মিয়ানমার নৌ-বাহিনীতে যুক্ত হয় নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি তৃতীয় যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) ১০৮ মিটার দীর্ঘ ‘সিন ফো শিন’ এবং এর আগে ‘ফার্স্ট এট্যাক ক্রাফ্ট এফ-১৪’ নামে আরেকটি যুদ্ধযান।

 
৪৩ মিটার দীর্ঘ এই যুদ্ধ জাহাজ বর্তমানে বঙ্গোসাগরে টহলে রয়েছে। এটি রাডার, ফাঁকি দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। এছাড়া উচ্চগতির এই জাহাজটিতে যুদ্ধজাহাজ বিধ্বংসী আটটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাইডেড মিসাইল ও টর্পোডো রয়েছে- যেগুলো সম্প্রতি ‘অতি সস্তা’য় রাশিয়া ও চীন থেকে পাওয়া গেছে বলে মিয়ানমার নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

 
এছাড়া ‘ফার্স্ট এটাক ক্রাফট’ নামের গাইডেড মিসাইল সম্বলিত আরেকটি যুদ্ধজাহাজ বঙ্গোপসাগরে নিয়োজিত হয়েছে, যেটি এয়ারক্রাফ্ট ও যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। স্থানীদের অভিমত, এই এলাকার সমুদ্রের তলদেশে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাস রয়েছে। বর্তমানে মিয়ানমার সরকার সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে থাইল্যান্ড ও চীনে রফতানি করছে।

তারা বঙ্গোপসাগরের বিতর্কিত জলসীমাতেও রিগ স্থাপন করতে চায়। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ছয় বছর আগে বিতর্কিত জলসীমায় মিয়ানমারের রিগ বসানো নিয়ে দুই প্রতিবেশী মুখোমুখি হয়েছিল। এরপর থেকেই মূলত নৌ-শক্তি বাড়াচ্ছে মিয়ানমার।

 
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে মিইউ নদীর মোহনায় এই নৌবাহিনীর নিজস্ব ডকইয়ার্ডকে নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে পারমাণবিক স্থাপনার রক্ষার প্রস্তুতির। নাকি পশ্চিমাঞ্চলীয় নৌবাহিনীর জন্য কেনা সাবমেরিনের ঘাঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।