ঢালচরের শুঁটকি শুকিয়ে স্বাবলম্বী শতাধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিক

ভোলার জেলার সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোবসাগরের মোহনায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারের প্রায় শতাধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিক শুঁটকি শুকিয়ে স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছে। পাশাপাশি সংসারের বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছেন তারা। আর শ্রমিকদের শুকানো শুঁটকি যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে।

 

 

এতে করে এসকল শ্রমিকের ঘরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরতে শুরু করেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোলার জেলার সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোবসাগরের মহনায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচরের বাতাসে এখন শুধু শুঁটকির গন্ধ। প্রতিবছরের শুকনো মৌসুমে প্রায় শত শত লোক বঙ্গোবসাগরের মোহনায় মাছ শিকার করতে আসে। আর আহরিত মাছের একাংশ বরফজাত করা হয়। আর বাকি মাছ দিয়ে করা হয় শুঁটকি।

 

 

এই চরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ৫০ জন মহাজন রয়েছে। তারা এ সকল জেলেদের কাছ থেকে কাঁচা মাছ ক্রয় করে সাগরের পাশে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক দিয়ে রোধে শুকানোর কাজ করাচ্ছেন। আর এই মাছ ধরা ও শুকানোর জন্য রয়েছে প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ শ্রকিক। আর এই শ্রমিকদের কাজ হচ্ছে সাগরে মাছ ধরা, শুঁটকি পল্লীতে মাছ বাছাইকরা, ট্রলার থেকে নামানো ও রোদে শুকানো। এখানে হরেক রকমের মাছ শুকিয়ে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয় ব্যাপরীদের কছে।

 

 

প্রতিমন ওলুপা শুঁটকি ২ হাজার থেকে ২৫শ টাকা, সেওলা ১৪শ থেকে ২ হাজার টাকা, রাবিশ ১২শ থেকে ২ হাজার টাকা ও চিংড়ি গুড়া ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া এই চরে খাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার মাছের শুটকি শুকানো হয়। প্রতিদিনই শুঁটকি কেনার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছে এই চরে। এই শুঁটকি নিয়ে যাচ্ছেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোকামে। আর এইচরের শুটকি পল্লীতে শ্রমিকের কাজ করে পরিবার ও সংসার চালাচ্ছেন আর করছেন বারতি আয়।

 

 

শুটকি পল্লীর নারী শ্রমিক শুফিয়া বেগম, জানান, আমারা এই কাঁচা মাছ শুকিয়ে দৈনিক যা পাচ্ছি তা দিয়ে আমাদের সংসার আগের ছেয়ে অনেক ভালো চলে। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক ভালোই আছি। শুঁটকি ব্যাপারী আবুল কাসেম মাঝি জানান মৌসুমের প্রথম দিকে ঘণ কুয়াশার কারণে শুঁটকিকরণ প্রক্রিয়া ব্যহত হয়। কিন্তু শেষ দিকে অনুকূল আবহাওয়ার ফলে অনেক মাছ শুঁটকি করা যায়, আর ব্যাপারীদের কাছ থেকে দামও ভালো পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।