নিজামীর রায়কে কেন্দ্র করে হরতাল ডাকার কথা ভাবছে জামায়াত

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায়কে কেন্দ্র করে হরতাল ডাকার কথা ভাবছে দলটি। জামায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য একথা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “কর্মসূচিতো আসবেই। তবে তা কোন ধরনের সে বিষয়ে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা চলছে।” সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটার সময় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচির ঘোষণা আসেনি।

 

জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার এক সদস্য বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তিন দিনের সফরে আগামী ২৫ জুন ঢাকা আসছেন। তার এই সফরের সময় সরকার নিজামীর রায় দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে বুঝাতে চায় জামায়াত সহিংস রাজনীতি করছে। তারা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ আরেকটি নতুন কৌশল নিয়ে এগুতে চায়। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের এ মিথ্যা প্রহসনের রায় সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণ পুরোপুরি অবগত।”
কয়দিনের কর্মসূচি হবে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নেতা বলেন, “জামায়াতের আগের রায় যেভাবে হয়েছে এ রায়টিও সেভাবে হবে। কারণ এটি প্রতিহিংসার বিচার। রায় যদি উল্টো হয় হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি আসবে। প্রথমদিকে দুই দিনের কথা ভাবা হচ্ছে।”

 

জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর এখন যারা নেতৃত্বে রয়েছে তাদের বেশিরভাগ নেতাই অন্যান্য নেতাদের থেকে মাওলানা নিজামীকেই বেশি পছন্দ করেন। সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার নিজামীর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

 

এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষে যেকোনো দিন রায় দেয়া হবে মর্মে (সিএভি) অপেক্ষমাণ রেখে দেন আদালত। কিন্তু গত ৩১ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির অবসরে গেলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণই থেকে যায়।
নিজামীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম দাবি করে বলেন, “প্রসিকিউশন নিজামীর বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগেএনেছে তা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। আশা করি এ সব অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পাবেন।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।