প্রাণভয়ে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি: নূর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন দাবি করেছেন, তার জীবনের সংশয় থাকায় তিনি বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় চলে এসেছেন।

 

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামার পর সাংবাদিকদের কাছে নূর হোসেন এমনটাই দাবি করেন। আজ স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় নূর হোসেন ও তার দুই সঙ্গী ওহিদুর রহমান ও খান জামানকে ফের আদালতে তোলার কথা রয়েছে। নূর হোসেন বলেন, “আমি পালিয়ে না এলে যারা এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলত। সেই কারণেই আমি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”

 

কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বলতে অস্বীকার করেন নূর হোসেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে, আপনারাও তাদের সহযোগিতা করুন।”

 

ছয় কোটি টাকা লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদন্ত করুক তাহলেই আসল সত্য প্রকাশ পাবে।” তিনি আরো বলেন, “আগামী সপ্তাহেই বাংলাদেশ থেকে তার পরিবারের লোকজনেরা আসছে। তারপর তাদের সঙ্গে কথা বলেই আইনজীবী যা করার করবেন।”

 

প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকেও গত ১৪ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা কৈখালির একটি বহুতল আবাসন থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অধৈভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪ বিদেশি নাগরিক আইন (ফরেনারস অ্যাক্ট) লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

 

পরদিন ১৫ জুন নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগী ওহিদুর জামান ও খান সুমনকে বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। তাদের প্রত্যেকের আট দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২৩ জুন তাদের ফের আদালতে তোলা হয়। মুখ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম মধুমিতা রায় ওই তিনজনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে দিয়ে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ৭ জুলাই তাদের আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিয়ে দমদম কারাগারে পাঠান।

 
গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এর তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় একে একে ভেসে ওঠে সাতজনের মরদেহ। এই সাতজন হলেন এক গাড়িতে থাকা কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সঙ্গী তাজুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন ও তাঁর গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আরেকটি গাড়িতে থাকা আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম।

 

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে নজরুলের পরিবার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।