লঞ্চ দুর্ঘটনা আমাদের দেশে নতুন নয়, ২০ বছরে লঞ্চডুবিতে নিহত ৫৫০০, নিখোঁজ ১৫০০

লঞ্চ দুর্ঘটনা আমাদের দেশে নতুন নয়। স্বাধীনতার পর থেকে বার বার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। যখন বড় কোনো দুর্ঘটনা হয়, তখন সরকারের মধ্যে নড়াচড়া শুরু হলেও তা একসময় থেমে যায়। কেউই শাস্তি পায় না। এরপর আবার দুর্ঘটনা বাড়ে, মৃত্যুর মিছিলও বাড়ে।

 

সরকারি ও বেসরকারি তথ্যে জানা যায়, গত দুই দশকের—১৯৯৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই ২০ বছরে ৬৫৮টি লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লোক। আর দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ আছেন আরো প্রায় দেড় হাজার জন। তাদের লাশ আর কখনো পাওয়া যাবে না। এসব লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণে নিশ্চিহ্ন হয়েছে ৩৯৩টি পরিবার। আর একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে আরো ৬৫৬টি পরিবার।

 

বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেল খাত রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) এই হিসাব দিয়েছে। আর সরকারের সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর (ডস) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী এই সময়ে ৩৮৯টি দুর্ঘটনায় নিহত প্রায় দুই হাজার ৯০০ জন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৬০০ জন।

 
সরকারের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে লঞ্চ দুর্ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের পাঁচ শতাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সব ঘটনার পর তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয়া হয়নি। কিছু জমা পড়লেও তা প্রকাশ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব কমিটির মতে, লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত দায়ী নৌযানের ত্রুটিপূর্ণ নকশা প্রণয়ন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য–বোঝাই এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস না মানা। আবার বেশির ভাগ নৌযানে প্রাণরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও থাকে না। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করা এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই। দেখা গেছে, মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও তা আর কার্যকর হয়নি।

 

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ৬৪টি ছোট-বড় লঞ্চ দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি, এক হাজার ২০৫ জন মারা যান; আর নিখোঁজ ছিলেন ৫৬ জন। পরের বছরেই মারা যান আরো ৪৮৭ জন। আবার ২০০৮ সালে লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা যান ৩০১ জন এবং ২০০৯ সালে ৩০৯ জন।

 
২০০৫ সালে যমুনা নদীতে দুর্ঘটনার শিকার হয় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল রায়পুরা’। এতে শতাধিক যাত্রী নিহত হন। নিখোঁজ থাকেন আরো শতাধিক যাত্রী।

 
সর্বশেষ বড় লঞ্চ দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালে। মেঘনায় নিমজ্জিত হয় ‘এমভি শরীয়তপুর-১’। এতে ১৪৭ জন যাত্রী প্রাণ হারান। সে সময়ও যথারীতি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ভবিষ্যতে লঞ্চ দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তদন্ত কমিটিও একাধিক সুপারিশ করে। কিন্তু সেই সুপারিশের বাস্তবায়ন আর হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।