পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া পিনাকের খোঁজ নেই , ক্ষুব্ধ স্বজনরা

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ এর কোনো সন্ধান মিলেনি। ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি উদ্ধারকারীরা। এখনো পদ্মার পাড়ে নিখোঁজদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।

 

এতদিন পেরিয়ে গেলেও লঞ্চের সন্ধান না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। অনেকে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

লঞ্চটি সন্ধানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান জানিয়েছেন, বিমানের প্রযুক্তি এখানে ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলের ৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও লঞ্চটির অবস্থান চিহ্নিত করা যায়নি।
লঞ্চ উদ্ধার না হলেও বাড়ছে লাশের মিছিল।আমাদের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪২ জনের লাশ উদ্ধার হলো। এখনো দেড় শতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারি তথ্যমতে নিখোঁজের তালিকা বেড়ে ১৩৯-এ দাঁড়িয়েছে। তবে অনেক স্বজন আর মাওয়া ঘাটের অপেক্ষায় বসে না থেকে শরীয়তপুর, চাঁদপুর, ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন স্থানে নিজ উদ্যোগে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
উদ্ধার হওয়া ৪২ লাশের মধ্যে ২৩টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১২টি লাশ শিবচর পৌর কবরস্থানে বাদ জুমা বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। গতকাল উদ্ধার হওয়া পাঁচটি লাশ শনাক্তকরণের জন্য মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে।
গত সোমবার ২০০’র বেশি যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অর্ধেকের বেশি যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান জানান, ভাটির দিকের জেলাগুলোতে সতর্কাবস্থা নেয়া হয়েছে যাতে নদীতে মৃতদেহ ভেসে উঠলেই তা শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে দ্রুত হস্তান্তর সম্ভব হয়।
এদিকে, লঞ্চ উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধার অভিযান ঠিকভাবে হচ্ছে না বলেও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। হারানোদের খোঁজে পদ্মাপাড়ে স্বজনদের ভিড় বেড়েই চলেছে। লাশের সন্ধান পাওয়া গেলেই দিগি¦দিক ছোটাছুটি করছেন তারা।
শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযানে যোগ হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ জরিপ-১০। এর সঙ্গে রয়েছে জরিপ-৭। জরিপ-১০ চলার পথে দুই পাশে প্রায় ৩০০ মিটার স্ক্যান করতে পারে। এ ছাড়া পানির নিচে পলিমাটি ও কাদামাটিতে ৭০ মিটার এবং বালিমাটিতে ১৮ মিটার গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করতে পারে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সমন্বয়ক নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন মো. নজরুল ইসলাম জানান, যে স্থানে লঞ্চটি ডুবে গেছে তার চারপাশে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, চিটাগাং পোর্ট এবং ফায়ার সার্ভিস দলের সাহায্যে জরিপ-১০ ও কান্ডারি-২ এর চাদবটম প্রফাইলার, ইকো সাউন্ডারের সহায়তায় প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রস্তুত আছে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও নির্ভীক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।