অবরোধে ভয় ও শঙ্কা নিয়েই দেশব্যাপী এসএসসি পরীক্ষা শুরু আজ

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ডাকা টানা অবরোধে ভয় ও শঙ্কা নিয়েই দেশব্যাপী শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শুক্রবার সকাল ৯টায় পরীক্ষা শুরু হয়। চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথমপত্র, সহজ বাংলা প্রথমপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথমপত্রের পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এবারের পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুর্ষ্ঠিত হবে।

বিরোধী দলের অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে দেশব্যাপী ১০টি বোর্ডের অধীনে ২ ফেব্রুয়ারি এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপরসনের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ ও নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ১ ফেব্রুয়ারি  থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয় ২০ দল।

শিক্ষা নুরুল ইসলাম নাহিদ হরতাল-অবরোধের মধ্যে পরীক্ষা নেয়ার কথা বললেও পরে ওই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী জানান, হরতালের মাঝে কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। ২ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষাটি পিছিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি নেয়া হবে। পরীক্ষার ঘোষিত সময়সূচি অনুয়ায়ী ৪ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত বিষয়ের পরীক্ষা থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

পরে গত মঙ্গলবার ৭২ ঘণ্টার হরতাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাড়লে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষাও স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

এ অবস্থায় শুক্রবার  শুরু হতে যাচ্ছে ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা।  সব আয়োজন-প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অবরোধ ও হরতালের বৈরী পরিবেশে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ সর্তকতাবস্থা নেয়া হয়েছে। এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে অধিকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

এবার সারা দেশের ২৭ হাজার ৮০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩৯ জন, আর ছাত্রী ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯২৭ জন।

এবার তিন হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে এবার ২৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ছাত্র ১৩২ জন ও ছাত্রী ১৫৭ জন। জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপলী, দোহা, আবুধাবী, দুবাই, বাহরাইন ও ওমানের সাহামে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

এ বছর ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও দিনাজপুর্- এ ৮ বোর্ডের অধীনে মোট ১১ লাখ ১২ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৪ জন ও ছাত্রী ৫ লাখ ৬৩ হাজার ২৭ জন।

মাদরাসা বোর্ডের অধীনে  অংশ নেবে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৩৬ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৪ জন।

আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ২৯৫ জন ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে ছাত্র ৮১ হাজার ৩৩৯ জন ও ছাত্রী ২৯ হাজার ৯৫৬ জন।

ঢাকা বোর্ডের অধীনে এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৫০ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৮ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫২ জন।

কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ জন। এরমধ্যে ছাত্র ৬৭ হাজার ৩৩৯ জন ও ছাত্রী ৭৮ হাজার ৯০৭ জন।

রাজশাহী বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬৬ হাজার ৯১৭ জন ও ছাত্রী ৬১ হাজার ২৮২ জন।

যশোর বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ২৯ হাজার ১’শ জন পরীক্ষা দিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬৫ হাজার ৮৩৩ জন ও ছাত্রী ৬৩ হাজার ২৬৭ জন।

চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে ৮৮ হাজার ৬২৬ জন। এরমধ্যে ছাত্র ৪১ হাজার ৯৫২ ও ছাত্রী ৪৬ হাজার ৬৭৪ জন। এ বোর্ডে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি ৪ হাজার ৭২২ জন।

বরিশাল বোর্ড থেকে ৭০ হাজার ৮০৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তারমধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৩৮৭ জন ও ছাত্রী ৩৫ হাজার ৪১৯ জন।

সিলেট বোর্ড থেকে ৭২ হাজার ২১০ জন অংশগ্রহণ করছে। এরমধ্যে ৩২ হাজার ৪৫৩ জন ছাত্র ও ৩৯ হাজার ৭৫৭ জন ছাত্রী।

দিনাজপুর বোর্ড থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৫৪ জন। ছাত্র ৬৫ হাজার ৮৫ জন ও ছাত্রী ৬১ হাজার ৮৬৯ জন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি জনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই, এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশহগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরনের এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১০ মার্চ পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ মার্চ শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা; তা চলবে ১৬ মার্চ পর্যন্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।