ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে ভূমিকা রাখার আশ্বাস মমতার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । শনিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তাকে এই আশ্বাস দেন মমতা। দুপুরে তাদের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, গণভবনে প্রথমে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আধা ঘণ্টা একান্তে বৈঠক করেন মমতা।
শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ তোলেন বলে ইকবাল সোবহান জানান। তিনি বলেন, “পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ সংরক্ষণ করে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

স্থলসীমান্ত চুক্তির বিষয়ে মমতা বলেন, “৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট সব সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। লোকসভায় তা জমা দেয়া আছে। চলতি মাসের ২৩ তারিখে শুরু হওয়া লোকসভার অধিবেশনে তা পাস হবে বলে আশা করি।”

এর আগে গণভবনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেলা সোয়া দুইটার দিকে তিনি গণভবন থেকে বের হন।

২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা চুক্তি সইয়ের কথা থাকলেও মমতার আপত্তিতে তা আটকে যায় তখন। স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকরেও বিরোধিতা ছিল তার। চার বছর পর ভারতের রাজনীতির পালাবদলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর সুর এখন অনেকটা নরম।

তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলেও মমতার এই সফরে তিস্তা চুক্তি ও স্থলসীমান্ত চুক্তির জট খোলার আশা করছিল বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও আগেই জানিয়েছিলেন, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা  করবেন তিনি।

শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে মমতা তার প্রতি আস্থা রাখতে বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “আমার দিক থেকে এলবিএর (স্থলসীমান্ত চুক্তি) প্রবলেম সলভ করে দিয়েছি।… তিস্তায়ও আস্থা রাখুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।