৩০ লাখ শহীদের নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই: ট্রাইব্যুনাল

যুদ্ধাপরাধের মামলায় আতাউর রহমান ননী ও মো. ওবায়দুল হক তাহেরের রায়ের পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে, ‘১৯৭১ সালে ৩০ লাখ শহীদ ও এক কোটি লোককে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এটি মীমাংসিত একটি বিষয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে। এর সুযোগ নেই।’

 

মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণার সময় এ মন্তব্য করেন।

গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীতে একটি আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।’

তার এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী বহু সংগঠন। এ বক্তব্যের জন্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে খালেদার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইজনীবী। তবে বিএনপি বলছে, খালেদার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই, মামলা রাজনৈতিক।

মঙ্গলবার ননী-তাহেরের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের বলেন,  ‘ট্রাইব্যুনাল আজ রায় প্রদানকালে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। এই ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মদানেই স্বাধীন বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে শহীদ পরিবারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। এ রায় শহীদ পরিবারের জন্য সান্ত্বনা। দীর্ঘ সময় পর হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছে শহীদ পরিবার।

 

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার রাজাকার মো. ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে দুই তাদের দণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে রায়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।