রাজধানী ঢাকাসহ দেশে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরো বহু মানুষ। বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।  প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কোনোপাড়া কাঠেরপুল এলাকায় বজ্রপাতে দুই যুবক মারা গেছেন। এসময় আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন-মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর হাতারপাড়ার বাদল মোল্লার ছেলে নোমান হাসান লিংকন (২১) ও কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বরুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহেদ (২৩)।

আহত রাইয়ানকে (২০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, স্থানীয় কনকর্ড বালুর মাঠে ফুটবল খেলার সময় বজ্রাহত হন ওই তিন যুবক। এ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই দু’জনের মৃত্যু হয়।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জে বজ্রপাতে মাদ্রাসা শিক্ষক, নারী ও শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের পাঙ্গাসি ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর, চকনুর ও বেতগাড়ী এবং উল্লাপাড়ার সিমলা গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেতগাড়ী গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক আনোয়ার হোসেন (৪৫), একই উপজেলার চকনূর গ্রামের নূরনবী সরকারের মেয়ে নুপুর খাতুন (৮), বৈকন্ঠপুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে সুলতান মাহমুদ (৩৫), উল্লাপাড়া উপজেলার শিমলা গ্রামের আব্দুল লতিফ (৩৫) ও বেতুয়া গ্রামের গৃহবধু শাহিনুর বেগম (৩০)।

কিশোরগঞ্জ: বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বাজিতপুর উপজেলায় দু’জন, হোসেনপুর উপজেলায় একজন ও তাড়াইল উপজেলায় একজন মারা গেছেন।

মৃতরা হলেন-বাজতিপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের কাইকড়ি গ্রামের আবেু বক্করে স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৫৬), দিলালপুর ইউনিয়নের বাহেরনগর এলাকার মঞ্জু মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (২০), তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের আব্দুর কুদ্দুসের স্ত্রী মমতা বেগম (৪৫) ও হোসেনপুরের আড়াইবাড়িয়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম শুভ (১৮)। তিনি হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

নাটোর: বিকেলে বজ্রপাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার রঘুনাথপুর ও উত্তর লালপুর গ্রামে মোবারক হোসন (৩৫) ও সাহারা খাতুন (৪৮) নামে দু’জন মারা গেছেন।

নিহত মোবারক হোসন উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত মো. আলীর ছেলে এবং সাহারা খাতুন উত্তর লালপুর গ্রামের বান্টু আলী শেখের স্ত্রী।

লালপুর থানার ওসি আব্দুল হাই বাংলানিউজকে জানান, মোবারকের নামে  একাধিক মামলা রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও সরাইল উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন এবং অরুয়াইল ইউনিয়নে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় কৃষকসহ চারজন মারা গেছেন।

নিহতরা হলেন- বাঞ্ছারামপুর উপজেলার  সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের যশু মিয়ার ছেলে শামসুল মিয়া (৪৫), চরশিবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (২৮), কানাইনগর গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে কবির হোসেন (৪২) এবং সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের দোবাজাইল গ্রামের রফিকুল ইসলাম রুকু মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০)।

হবিগঞ্জ: বিকেল সাড়ে ৩টায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে বজ্রপাতে হাবিব মিয়া (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে হাবিব বাড়ির পাশের হাওরে বোরো ধান কাটছিলেন। এসময় বজ্রপাত হলে হাবিব গুরুতর আহত হন। এ অবস্থায় হাবিবকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজশাহী: রাজশাহীর তিন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলাগুলো হলো- মোহনপুর, দুর্গাপুর ও গোদাগাড়ী উপজেলা।

বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই উপজেলাগুলোতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঘাষিগ্রাম ইউনিয়ন নারায়ণপুর গ্রামের সামছুদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৪), হাততৈড় গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০) ও ডাঙ্গাপাড়ার নিতেনের ছেলে সৈতেন চন্দ্র (৩৫), গোদাগাড়ী উপজেলার গুসিরা গ্রামের লাইলী বেগম (৪০) ও দুর্গাপুর উপজেলার পালশা খামারুপাড়া এলাকার মর্জিনা বেগম (৪০)।

নীলফামারী: দুপুরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের ফুলেরঘাট গ্রামে বজ্রপাতে লালবিবি (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মাগুড়া ইউনিয়ন ইউপি চেয়ারম্যান মাহামুদুল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, দুপুরে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে আলম হোসেনের স্ত্রী লালবিবি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পিরোজপুর: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বজ্রপাতে ইউনুস সিকদার (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আয়শা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ বজ্রাহত হয়েছেন।

বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়হারজী গ্রামের একটি মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দাউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান বাংলানিউজকে জানান, বিকেলে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে ইউনুস ও তার ভাবি আয়শা বেগম বাড়ির সামনের মাঠে গরু আনতে যান। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ইউনুস মারা যান। এতে গুরুতর আহত হন আয়শা। এ অবস্থায় আয়শাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গাজীপুর: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বজ্রপাতে সাত্তার আলী (২৮) ও রুবি বেগম (৩৯) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত সাত্তার আলী কুড়িগ্রামের পচাকাটা থানার সাতানা এলাকার মো. ছানাউল্লাহ বেপারির ছেলে ও রুবি বেগম কাপাসিয়া উপজেলার সিঙ্গুয়া এলাকার কাজল মিয়ার স্ত্রী।

কাপাসিয়া থানার এসআই মো. শাহজাহান মিয়া জানান, বিকেলে কাপাসিয়া উপজেলার উত্তর খামের এলাকায় আব্দুর রশীদের জমিতে ধান কাটছিল সাত্তার আলী। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। অপর দিকে, প্রায় একই সময় কাপাসিয়ার সিঙ্গুয়া এলাকায় মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান রুবি নামে ওই নারী।

বগুড়া: বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে আনোয়ার হোসেন (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় তার ভাই আরিফুল ইসলাম (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, বেতগাড়ী গ্রামের হাদু প্রামাণিকের দুই ছেলে আনোয়ার ও আরিফুল নিজ এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠে ধান কাটছিলেন। এসময় বজ্রপাত হলে আনোয়ার ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় তার ভাই আরিফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমক) স্থানান্তর করা হয়।

পাবনা: পাবনার আমিনপুর উপজেলা ও চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে দুই স্কুল শিক্ষার্থীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ বজ্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

মৃতরা হলেন-উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণচর গ্রামের শহীদ সরদার (৫৮), সোনাতলা গ্রামের ইউসুফ সেখের ছেলে হীরা (১৩), বাঘলপুর গ্রামের ময়েন সরদার (৬৫) এবং মৃত শিরু সরদারের মেয়ে শিখা খাতুন (১৩), চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গার রাউতকান্দি গ্রামের ছকির উদ্দিন (৭০) ও বারকোনা গ্রামের ফজলুর রহমান(৪০) ।

নেত্রকোনা: রাতে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের দুবারই গ্রামে বজ্রপাতে রুবেল মিয়া (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।  তিনি একই গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেকের ছেলে।

পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, রাতে মাঠে ধান কাটা শেষে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফিরছিলেন রুবেল। এসময় বজ্রপাতে হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে বলরাম দাস (৫০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) দুপুরে নরসিংদী ও আড়াইহাজারের সীমানা এলাকায় মেঘনা নদীতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বলরাম দাস নরসিংদীর সদর উপজেলার দোয়ানী গ্রামে।

নরসিংদী: নরসিংদীর সদর ও রায়পুরা উপজেলায় বজ্রপাতে নারী-পুরুষসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার মহিষাশুরা গ্রামের কৃষক আবদুল করিম (৫০), নজরপুরের ফুলি বেগম (৩২) ও রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরেরচর গ্রামের জোস্না বেগম (৩৮)।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল নজরপুরে বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন গৃহবধু ফুলি বেগম। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে তার ওপর বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই সময় সদর উপজেলার মহিষাসুরা গ্রামে কৃষক আবদুল রহিম মাঠ থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এর আগে বিকেলে রায়পুরার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরেরচর গ্রামে নদীর পাড় থেকে গোবরের চট (লাকরী) আনতে গেলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে গৃহবধূ জোস্না বেগম ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় বজ্রপাতে তায়েব আলী (১৭) ও মেহর বেগম (৪০) নামে আরও দু’জন আহত হয়। আহতদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।