ঢাকায় পৌঁছেছেন জন কেরি

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আজ সোমবার এক সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসছেন। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ায় এই সফরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব দেবেন জন কেরি।

 

তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সামর্থ্য অর্জন করেছে। নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সচেষ্ট আছে—এই বার্তা দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

 

জন কেরি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে আজ সকালে ঢাকায় আসছেন। সকাল-সন্ধ্যার এই সফরে এসে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় তিনি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি যাবেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জন কেরির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর মূল বৈঠকটি হবে। ওই আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল অংশ নেবেন।

 

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট গতকাল রোববার রাজধানীতে এক সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তা সহযোগিতায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং কিছু ব্যাপারে সহযোগিতা চলছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে এই সফরে আলোচনা হবে।

 

জন কেরির সফরে আলোচনার অগ্রাধিকার বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল বিকেলে বলেন, সফরে দুই দেশের সম্পর্কের সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা নিশ্চিতের অনুরোধ জানানো হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি এ এম রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হবে।

 

সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বিশেষ গুরুত্ব পাবে কি না, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাসঙ্গিকভাবে বিষয়টি আলোচনায় আসবে। তবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়গুলো জন কেরির সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরা হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ সামর্থ্য অর্জন করছে এবং প্রয়োজন হলে বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। তবে নিজের দেশ ও দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সব সময় সচেষ্ট রয়েছে। তা ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশই বাইরের কারও সহায়তা নিয়ে নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারে না, এটিও মনে রাখতে হবে। এই বার্তার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র যেসব সহযোগিতা দিতে চায়, তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া হবে, এটিও বলা হবে।

 

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনায় অংশ নিতে গতকাল ঢাকায় এসেছেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন। জন কেরির সফরের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তরে জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সহযোগিতার প্রসঙ্গটি জন কেরির সফরে অবশ্যই বিশেষ গুরুত্ব পাবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।’

 

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক গত বুধবার ওয়াশিংটনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানান, জন কেরি ঢাকা সফরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতার পাশাপাশি গণতন্ত্র, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার ওপর জোর দেবেন।

 

সফরসূচি: জেনেভা থেকে জন কেরি আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি একটি হোটেলে বিশ্রাম নিতে যাবেন। এরপর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই হবে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন। জাদুঘর পরিদর্শনের পর জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য তাঁর দপ্তরে যাবেন। এরপর পদ্মায় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টারে (ইএমকে সেন্টার) যাবেন। ইএমকে সেন্টারে তিনি তরুণ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি মিরপুরে একটি পোশাক তৈরির কারখানা পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে তিনি দূতাবাসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে জন কেরির বৈঠকের কথা রয়েছে।

 

গত পাঁচ বছরে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর। ২০১২ সালের ৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। হিলারির ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপ শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।