টাঙ্গাইলে ১৪ জেএমবি সদস্যের ২০ বছরের কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা

জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ- জেএমবির ১৪ সদস্যকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত । ২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় টাঙ্গাইলে দায়ের করা মামলায় দণ্ড ও  জরিমানা করেছেন আদালত ।

মঙ্গলবার দুপুরে এই আদেশ দেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া।

এই ১৪ জনকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করেন আদালত। অনাদায়ে তিন বছরের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ডাদেশও দেওয়া হয়।

জরিমানার দশ হাজার টাকা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশের মতো টাঙ্গাইল আদালত চত্বর, শহীদ জগলু রোড ও বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন- নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার টেকপাড়া গ্রামের দীন মোহাম্মদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মাদারকোল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ইয়ামিন মিয়া, সবুর মাস্টারের ছেলে মিজান, রাজ্জাক মুন্সির ছেলে আব্দুল আহাদ, মোংলা মিয়ার ছেলে হাবিল, মধু মিয়ার ছেলে রোস্তম, আব্দুলাহেল বাকির ছেলে তারিকুল, কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের আখম আজাদের ছেলে আরমান বিন আজাদ, মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে আব্দুলাহ আল মামুন ওরফে সোহেব ও রাসেল, বাসাইল উপজেলার হাবলা দক্ষিনপাড়া গ্রামের শাজাহান মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান, গোপালপুর উপজেলার পলসিয়া গ্রামের সুলতান হোসেনের ছেলে জিয়াউর রহমান ওরফে তানভীর, বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার তোরাব বেফা গ্রামের মোতাহার আলীর ছেলে শহীদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার শরিফবাগ গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল্লা আল তাসনিম।

মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইসহ ১৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে অন্য মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের ফাঁসি হয় এবং হাবিল নামের অপর এক আসামি কারাগারে মারা যান। এছাড়া দণ্ডিতদের মধ্যে আরমান বিন আজাদ, রাসেল, তারিকুল এবং আব্দুল্লাহ আল তাসনিম পলাতক রয়েছেন। বাকি ১০ আসামি রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন, শামীম চৌধুরি।