পিলখানা হত্যা মামলার রায় গড়াতে পরে আগামীকাল

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় রক্তাক্ত বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সহস্রাধিক পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণসহ রায় ঘোষণা করছেন হাইকোর্ট। আসামি সংখ্যার দিক দিয়ে এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা। এর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রিজাইডিং জজ বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেছেন, রায় পড়া কখন শেষ হবে, তা বলা যাচ্ছে না।

তবে সার্বিক বিবেচনায় এটা পরিষ্কার যে, রায় পড়া সোমবারে গড়াবে। রায় পড়ার সময় বলা হয়, আমরা প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি পর্যবেক্ষণ দেবো। রায়টি সবমিলিয়ে ১০ হাজার পৃষ্ঠার বেশি। রায়ের পুরাটা না পড়লেও পুরো পর্যবেক্ষণ আমরা পড়ে শুনাবো। সবশেষে আমরা সংক্ষিপ্ত রায় দেবো। সেখানে রায়ের অংশে কে কোন কারণে কী সাজা পেয়েছেন, তা উল্লেখ করা হবে।

বিশেষ এ বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। রোববার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন তারা।

রোববার মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে আদালত রায়ের বাকি অংশ পড়ার জন্য আগামীকাল সোমবার সকালে পুনরায় সময় নির্ধারণ করেন। কিন্তু আইনজীবীদের অনুরোধে আদালত আজ মধ্যাহ্ন বিরতির পর ফের রায় পড়া শুরু করেন।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, বিচারকরা কাল আবার পর্যবেক্ষণ পড়বেন। আজ তারা অর্ডারিং পোরশন (সাজার অংশ) দেবেন বলে মনে হয় না।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের ঘটনায় ২০১৩ সালে রায় দেন ঢাকার জজ আদালত। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন আদালত।

তাদের মধ্যে কারও কারও একাধিক ধারায় সাজার আদেশ হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সাজা কার্যকরের অনুমতি (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানি শেষ হওয়ার সাত মাস পর রোববার এ রায় পড়া শুরু করেন হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ।

সকালে রায়ের উপক্রমনিকা পড়েন বিচারপতি মো. শওকত হোসেন। এরপর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী সেটি বাংলায় রায় পড়া শুরু করেন। এতে তিনি মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার দিক তুলে ধরেন।