“রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কার্যকর অগ্রগতি হচ্ছে না” সলিল শেঠীকে প্রধানমন্ত্রী

মায়ানমারের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বিভিন্নভাবে আলোচনা চলতে থাকলেও তার কার্যকর অগ্রগতি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর সেক্রেটারি জেনারেল সলিল শেঠী সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। সেখানে উপস্থিতি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও।

পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়। এসময় বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে কথা বলেন তারা। আসন্ন হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হাজিদের হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি সরকারের সহযোগিতাও চান প্রধানমন্ত্রী।

দেশটা আমাদের সকলের, সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গৌরীপুর-হোমনা সেতু এবং কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা রেলওয়ে ওভারপাস ও পদুয়া বাজার রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন করেছেন।

ঢাকার গণভবন থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাপ্ত এই প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন তিনি।

কুমিল্লার জনগণ, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরসহ তিন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশটা আমাদের সকলের, সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা চট্টগ্রাম চার লেইন প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার পদুয়া বাজারে ৩৪৪ দশমিক ১৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ওভারপাসটি ৩০ কোটি ৪৬ লাখ ৭১ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

২৬টি স্প্যান ও ২৪টি পিয়ারের এই ওভারপাসের কাজ ২০১৬ সালের মার্চ থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৯৪ কোটি ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছায় ৬৩১ দশমিক ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ওভারপাসটি নির্মাণ করেছে।

কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর-হোমনা মহাসড়কে গৌরীপুর-হোমনা সেতুটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে।

১১২ দশমিক ৬১ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণে ৭৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

গৌরীপুর-হোমনা সড়কটি কুমিল্লা-সিলেট হাইওয়ে পর্যন্ত সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় চারটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর স্থলে চারটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এবং দেড় কিলোমিটার হোমনা বিকল্প সড়ক নির্মাণসহ মোট ২৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর-হোমনা জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নির্মিত চারটি সেতুর মধ্যে গৌরীপুর-হোমনা সেতুটি উল্লেখযোগ্য। এতে গৌরীপুর থেকে হোমনা ও মুরাদনগর হয়ে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত সড়কটি বেইলি সেতুমুক্ত হয়েছে এবং যাত্রাপথ সহজ, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে।

বিকল্প সড়ক নির্মাণ এবং জেলা মহাসড়কটি প্রশস্ততার ফলে গৌরীপুর-হোমনা ও কোম্পানীগঞ্জ-মুরাদনগর-হোমনা এই দুটি মহাসড়কের মধ্যে যাতায়াত সহজতর ও যানজটমুক্ত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো নজরুল ইসলাম ও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মো. সিদ্দিকুর রহমান সরকার বক্তব্য দেন।

মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান এই অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।