তৃণমূল থেকে মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

তৃণমূল থেকে মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) দুপুরে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে একথা বলেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেলা বৃহস্পতিবার সোয়া ১১টায় সম্মেলনে যোগদান করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে।

তারও আগে প্রধানমন্ত্রী বুধবার (১৬ মে) সকালে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গি ও মাদকের কোনো স্থান হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী নতুন কর্মক্ষেত্রে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আপনারা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো তৎপর, বিশেষ করে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরো দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করছে।

শেখ হাসিনা জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গি ও মাদকের কোনো স্থান হবে না। এক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। সেখানে তিনি সমপানী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমির পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুস সোবহান জানান, প্রধানমন্ত্রী ৩৫তম বিসিএসসের এই নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। বিকালে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী একাডেমির অতিথি ভবন অরুনিমায় পৌঁছলে তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এবং একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. নাজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদকও বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনিতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।