রিক্সা বন্ধের প্রতিবাদ: সড়কে ‘১৬ গুটি, ৯ কড়ি’ খেলছেন রিকশাচালকরা

রাজধানীর প্রধান তিনটি সড়কে রিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন রিকশাচালক, মালিক ও শ্রমিকরা। অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আর তাতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক অবরোধ করে রিকশাচালক ও শ্রমিকরা খেলায় মেতেছেন। সেইসঙ্গে তারা আওয়াজ তুলেছেন, ‘যেখানে রাস্তা, সেখানেই রিকশা’।

আজ সোমবার (৮ জুলাই) সকাল ৮টার পর থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ, শাহজাহানপুর, বাড্ডা, মানিকনগর, মুগদা, মান্ডাসহ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন রিকশাচালক ও শ্রমিকরা। প্রধান সড়কে রিকশা চলাচলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন রিকশা মালিকরাও।

এসময় সড়ক বন্ধ করে দিয়ে সড়কের মাঝে বসে ১৬ গুটি, ৯ কড়ি, ৬ কড়ি খেলায় মেতে উঠতে দেখা গেছে রিকশা চালকদের। খেলার পাশাপাশি রিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বিভিন্ন স্লোগানও দিচ্ছেন তারা।

এতে করে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে উত্তরা, গাজীপুর থেকে আসা যানবাহনগুলোর সায়েদাবাদ হয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আশেপাশের সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই কর্মস্থলের দিকে ছুটছেন।

রিকশাচালক সুবহান মিয়া জানান, ঢাকার তিন এলাকায় রিকশা চলাচল বন্ধ করে আমাদের পেটে যেমন লাথি মারা হয়েছে, একইভাবে প্যাসেঞ্জারদেরও কষ্ট বেড়েছে। আমাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে এই রাস্তাগুলোতে রিকশা চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হোক। সরকারকে বলবো- আমাদের মতো গরিবের পেটে লাথি মেরে আপনাদের কী লাভ?

মুগদা থেকে রিকশাচালক আলম শেখ বলেন, যেখানে রাস্তা থাকবে সেখানেই রিকশা চালাবো। রিকশা চললে যানজট হয় সেটা তো আমরা কখনোই দেখিনি। রাস্তায় যে এতো প্রাইভেটকার চলে সেটা সরকার বন্ধ করতে পারে না?

শাহজাহানপুর এলাকায় রায়হান আলম নামের এক রিকশা গ্যারেজ মালিক বলেন, আমার গ্যারেজে প্রায় দুইশোরও বেশি রিকশা আছে। প্রতিদিন সকালে গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে সারা দিন রিকশা চালায়। এতে করে যেমন রিকশাচালকদের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছে তেমনি আমাদের মতো গ্যারেজ মালিকরাও পরিবার নিয়ে খেয়েপড়ে বেঁচে আছি। রিকশা বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের সবাইকে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা রিকশা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছি। বাইরের কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।