করোনা যোদ্ধা একজন ইউসুফ মোল্লা টিপুর গল্প - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

করোনা যোদ্ধা একজন ইউসুফ মোল্লা টিপুর গল্প



মনির আহমেদ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বিখ্যাত হওয়ার জন্য মন্ত্রী, এমপি হতে হয়না, একটু মানবিক হয়েও নিমিষেই অনন্য উচ্চতায় নিজের স্থান করে নেয়া যায়। এমনটাই প্রমান করলেন কুমিল্লার আলোচিত যুবদল নেতা, কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সাধারন সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। 



সর্বনাশা ভাইরাস করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হলে যেখানে সন্তান বাবার লাশ, বাবা সন্তানের লাশ স্পর্ষ করেনা ! যেখানে করোনায় আক্রান্ত ভেবে জগত জননী জীবিত মা কে সন্তানরা রাস্তায় ফেলে যায় ! করোনায় মৃতরা স্বজনদের অবহেলায় যেখানে বৃষ্টিতে ভিজছে আবার রোদে শুকাচ্ছে ! যেখানে করোনায় মৃত বাবাকে গোশল দেয়ার জন্য সন্তানরা একটি গামছা দিতে কৃপনতা করছে !  করোনায় মৃত্যু হওয়ার সাথে সাথে স্বজনরা লাশ পেলে যেখানে পালিয়ে যাচ্ছে !  কোথাও স্বামী পালাচ্ছে মৃত স্ত্রীকে ফেলে, স্ত্রী পালাচ্ছে স্বামীকে ফেলে ! কোথাও সন্তান বাবাকে, আবার কোথাও বাবা সন্তানকে ! কোথাও কোথাও নির্মম সমাজ ব্যবস্থা মসজিদের খাটিয়া দিচ্ছেনা লাশ দাফনে ! এইতো গত কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে লাকসামে হেদায়েত উল্লাহ নামক একজন ব্যবসায়ীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ তারই গ্রামের বাড়ীতে নেয়ার পথে রাস্তায় গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে মানুষ নামের কিছু জানোয়ার ! দেশের নির্ভরযোগ্য গনমাধ্যম গুলোতে এমন অমানবিকতার সংবাদ গত তিনমাস যাবত প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে। ভয়াবহ এমন দুর্বিসহ নির্মমতার সময়ে ১১ জন সহযোদ্ধা নিয়ে “বিবেক” নামের সংগঠনের মাধ্যমে মানবিকতার পাশাপাশী অদম্য সাহসিকতার সাথে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত ব্যাক্তির দাফনে নিজেকে সম্পৃক্ত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাতীয়তাবাদী শক্তির অকুতোভয় সৈনিক, কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সাধারন সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  ইউসুফ মোল্লা টিপু। সামাজিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন গনমাধ্যম সুত্রে জানা যায় টিপুর নেতৃত্বে টিম “বিবেক” সকল প্রকার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কুমিল্লার সকল করোনায় মৃতদের গোশল, জানাযা এবং দাফন শরিয়াসম্মত ভাবে সম্পন্ন করছেন নিয়মিত। টিপুর মানবিক এবং সাহসী এমন কাজের ভুঁয়সী প্রশংসা করেছেন সর্বস্তরের কুমিল্লাবাসী। তাঁর এমন মানবিক কর্মের প্রশংসা করতে ভুলেননি কুমিল্লায় তাঁর প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের অনেক প্রভাবশালী নেতারাও। টিপুকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের ফেইসবুকে কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, বর্তমান কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আনিসুর রহমান (মিঠু) লিখেন, 
ইউসুফ মোল্লা টিপুতোমাকে অভিনন্দন  জানাচ্ছি ,হৃদয়ের গভীরতম স্থান থেকে ।
ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি , পোস্টারে দেখেছি , মাইকিং শুনেছি অমুক নেতাকে ভোট দিয়ে জনসেবার সুযোগ দিন ।
আমি অনেক ভেবেছি , নেতারা জনসেবার জন্য এতো সিরিয়াস কেন ? 
জনসেবার পথে যদি কোন কর্মীকে বাঁধা মনে হয় , প্রয়োজনে সেই কর্মীকে খুন করে ফেলতে হবে , জনসেবা নিশ্চিত করার জন্য !!! 
অথচ এখন জনসেবার সুবর্ন সুযোগ যাচ্ছে , কিন্তু সেবকরা নাই !  কেউ কেউ চিপা গলিতে দুয়েক ব্যাগ ত্রাণ দিয়ে ছবি তুলে , ফেসবুকে ছেড়ে এবং ঢাকার নেতাদের ইনবক্স করেই খালাস !!
ব্যক্তিগত ভাবে আমি কখনো যাকে নিয়ে ভাবিনী যে , এই ছেলেটি মানুষের প্রচন্ড দুর্দিনে এভাবে পাশে দাড়াবে । সেই ইউসুফ মোল্লা টিপু এবং তার সহযোগী ভাগীনা রনি সহ অন্যরা জীবনের ঝুকি নিয়ে মানুষের কাজ করছেন । 
কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে , করোনা আক্রান্ত মৃত মানুষদের প্রতিদিনই দাফন করে যাচ্ছে টিপু এবং সহযোগীরা  ! এটি শুধু মানবিকতাই নয় , প্রচন্ড সাহসিকতাও  –
ইউসুফ মোল্লা টিপুর  এই কাজের স্বীকৃতি না দেয়া রাজনৈতিক কৃপনতা ছাড়া কিছু নয় ।
আমি টিপু এবং টিপুর  সহযোগী সবাইকে দোয়া করছি , তোমরা সুস্থ থেকো , ভালো থেকো , মহান আল্লাহ্‌ তোমাদের সাহায্য করুক –
তোমাদের এই ঋণ -কোন দিন শোধ হবেনা —
যুবদল নেতা ইউসুফ মোল্লা টিপুকে নিয়ে কুমিল্লা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা আনিসুর রহমান মিঠুর এই ফেইসবুক স্টাটাসটি গত ৪ জুন সকাল ১০ টায় পোষ্ট করার পর এই পর্যন্ত প্রায় ২৫০০ লাইক, ৫০০ কমেন্ট এবং ৩৫০ টি শেয়ার হয়েছে। 
কুমিল্লার ব্যপক আলোচিত করোনা যোদ্ধা ইউসুফ মোল্লা টিপু সাহসী এবং মানবিক কাজ করে সে নিজের স্থান যেমন অনন্য উচ্চতায় নিতে পেরেছে তেমনি সমগ্র কুমিল্লাবাসীকেও সারাদেশে গর্বিত করেছে, সম্মানিত করেছে। টিপুর এই অদম্য সাফল্যে কুমিল্লার সন্তান হিসেবে আমি নিজেও গর্বিত। হয়তো ভবিষ্যত বাংলাদেশে আবারও এমন কোন মহামারী বা দুর্যোগ আসলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মানবতার ফেরীওয়ালা হিসাবে ইউসুফ মোল্লা টিপুই হবেন শক্তিশালী উদাহরন। 
ব্যাক্তিগত ভাবে টিপুর সাথে আমার অতটা চেনাজানা নেই, তবে রাজনৈতিক মামলা মোকদ্দমার কারনে কুমিল্লার আদালতে টিপুর সাথে মাঝে মাঝে দেখা হলেও কখনো কথা হয়নি। সম্ভবত গত নভেম্বরের প্রথম দিকে ঢাকা যাওয়ার পথে কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের একটি হাইওয়ে রেষ্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় টিপুর সাথে হঠাৎ দেখা। টিপু রেষ্টুরেন্টে ঢুকছিলেন আর আমি বের হচ্ছিলাম। তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের পরিচয় দিতেই টিপু বলল, ” ভাই আমি আপনাকে চিনি, আপনার বাড়ী লাকসামে” আমি আর টিপু যখন কথা বলছিলাম তখন কাকতালীয় ভাবে ওই রেষ্টুরেন্টে লাকসামের একজন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতাও প্রবেশ করছিলেন, ওই নেতা আমার সাথে কথা বলার সময় আমি ওনাকে টিপুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে আগ্রহ করলাম। আমার এমন আগ্রহ দেখে টিপু আবারও বলল, ” ভাই ওনাকেও পরিচয় করাতে হবেনা, আমি ওনাকেও খুব ভালভাবে চিনি” এ কথা বলেই অনর্গল লাকসামের ওই আওয়ামীলীগ নেতার নামধাম পদপদবী সহ বলে দিলেন টিপু। এই সৃতিচারনটুকু করার কারন হচ্ছে, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ইউসুপ মোল্লা টিপুর সাহসী মানবিকতায় আমার কাছে মনে হল টিপু রাজনীতির পাশাপাশী একজন শক্তিশালী সামাজিক ব্যাক্তিত্বও। রাজনীতিতে তিনি জেলা সদরে নেতৃত্ব দিলেও উপজলা পর্যায়ে নিজ দল বা প্রতিপক্ষ অন্য দলের নেতাদের সম্পর্কেও তাঁর ব্যাপক জানাশোনা ছিল।
মানবিকতায় এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ইউসুপ মোল্লা টিপুর মত নন্দিত যুবনেতারা হয়ত যুগে যুগে জন্মাবেনা, তবে তারা উদাহরন হয়ে থাকবে সারাদেশে। হয়ত দেশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বেও টিপুদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে একদিন। পরবর্তী প্রজন্ম দেশ ও জাতীর ভবিষ্যত দু:সময়ে বর্তমান করোনা বিপর্যস্ত সময়ে টিপুদের মানবিকতাকে শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করবে। টিপুর মত নিজেরাও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর আকাঙ্খা নিয়ে জাতীর দুর্যোগে মানবসেবায় নিজেদের সামিল করবে। পরিশেষে টিপু সহ টিম “বিবেক”র প্রতিটি সদস্যদের জন্য শুভ কামনা রইল, ঝুঁকিপুর্ন এই মানবিক কাজে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাদের সহায় হউক, সুস্থ রাখুক…আমীন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

পূর্বের সংবাদ