করোনার বড় ধাক্কা আ’লীগে, তিন নক্ষত্রের পতন - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

করোনার বড় ধাক্কা আ’লীগে, তিন নক্ষত্রের পতন



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

মহামারী করোনাভাইরাসে বড় ধাক্কা খেল আওয়ামী লীগ। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ৭২ ঘণ্টায় ক্ষমতাসীন দলটির তিন প্রভাবশালী নেতা না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এটিকে নক্ষত্রের পতন হিসেবেই আখ্যা দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্রেন স্ট্রোক করে ৯ দিন কোমায় থেকে শনিবার সকালে মারা যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। একইদিন মারা গেছেন দলটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। সোমবার মারা গেলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সিলেট সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এই তিন নেতার মৃত্যুই হয়েছে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

তিন নেতাই নিজ নিজ অঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয়। সংগঠন শক্তিশালী করতে তাদের ভূমিকা ছিল অনন্য। নাসিম রাজশাহী-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শেখ আবদুল্লাহ গোপালগঞ্জের গণমানুষের নেতা। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে এসে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে, দলে তার ত্যাগ সবসময়ই নেতাকর্মীরা স্মরণ করে আসছে। আর বদর উদ্দিন কামরান সিলেটবাসীর কাছে তো জনতার কামরান নামেই পরিচিত। সিলেটে সংগঠন গোছাতে তার ভূমিকা অনীস্বীকার্য।

একসঙ্গে নাসিম-আবদুল্লাহ-কামরানের মতো নেতার মৃত্যু হবে এমনটি কখনও কল্পনা করতে পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের আচমকা এই মৃত্যু নাড়া দিয়েছে দলটির নেতাকর্মীদের মনে।

স্বয়ং দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা পর্যন্ত এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তিনি রোববার সংসদে ভাষণ দেয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নাসিম ও আব্দুল্লাহকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশে ফেরার পর রাজনীতি করার মত পরিবেশ ছিল না। পদে পদে আমাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ সময় যে দুজনকে আমি সব সময় পাশে পেয়েছি, একই দিনে তাদের হারালাম।

‘ওয়ান-ইলেভেনের’ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তখনকার সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকারের সময় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কারাগারে থাকাবস্থায় স্ট্রোক করে পড়ে ছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় কারাবন্দি সালমান এফ রহমানের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স সবসময় জেলগেইটে রাখা থাকত তার পরিবারের পক্ষ থেকে। ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে মোহাম্মদ নাসিমকে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় বলে তিনি সেই যাত্রায় বেঁচে যান। তবে ওই সময় তার শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যায়।

আবেগাপ্লুত আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে এখানে দাঁড়াতে হচ্ছে। মাত্র ১০ তারিখে (১০ জুন) আমরা পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু করলাম। তখন একজন মাননীয় সংসদ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। শোক প্রস্তাব নিয়েছি।

এই শোক কাটতে না কাটতে আজ বদর উদ্দিন কামরানের মৃত্য হল। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন শোক চলছে তেমনি আবার আতঙ্কও বিরাজ করছে। বিশেষ করে করোনা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্ক তাদের। এ কারণে তারা দলীয় প্রধানকে রোববার সংসদ অধিবেশনে যেতে বারণ করেছেন।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গত শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে মোহাম্মদ নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে মোহাম্মদ নাসিমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ করে তার ব্রেইন হেমোরেজ (মস্তিকে রক্ষক্ষরণ) হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার সার্জারি করা হয়। ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিরদিনের মতো পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।

সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোহাম্মদ নাসিম। ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন। তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে ১৯৯৬ সালের সরকারে স্বরাষ্ট্র, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন নাসিম। সর্বশেষ তিনি ১৪ দলীয় মহাজোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আরেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, দলের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ গত শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাত ১০টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) আইসিউতে ভর্তি করা হয় আবদুল্লাহকে। মৃত্যুর পর জানা যায়, করোনা পজিটিভ ছিল ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর।

শেখ আবদুল্লাহ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি কলেজ ছাত্র সংসদ নেতা থেকে জেলা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। হয়েছেন এমপি-মন্ত্রী।

শেখ আবদুল্লাহ ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগে ত্যাগী নেতা হিসেবেই সমধিক পরিচিত। রাজনীতিতে তার ত্যাগ বেশ আলোচিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট মুজিব বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

শেখ মো. আবদুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ মতিউর রহমান ও মা রাবেয়া খাতুন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

স্থানীয় গওহরডাঙ্গা হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনে হেফজের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু করেন তিনি। এর পর একই মাদ্রাসার কওমি ধারায় পড়াশোনা করেন।

১৯৬১ সালে মেট্রিক, ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬৬ সালে বি.কম (অনার্স) ডিগ্রি নেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এম.কম এবং ১৯৭৪ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও নেন শেখ আবদুল্লাহ।

শিক্ষাজীবন শেষে সুলতানশাহী কেকানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও আইনজীবী হিসেবে গোপালগঞ্জ জজকোর্ট ও ঢাকা জজকোর্টে প্র্যাকটিস করেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন আবদুল্লাহ। তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি খুলনার আযম খান কমার্স কলেজে। কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী যুবলীগে যোগ দেন। গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এর পর কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া এই রাজনীতিক ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন শেখ আবদুল্লাহ। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সোমবার (১৫ জুন) ভোর ৩টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

গত ৫ জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন কামরান। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে গত শনিবার (৬ জুন) তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যায় তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেয়া হয়। পরের দিন ৮ জুন তাকে সিএমএইচে তাকে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়।

প্লাজমা থেরাপির পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠছিলেন কামরান। তবে তাকে সিএমএইচের আইসিইউতে রেখে অক্সিজেন সাপোর্টে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। রোববার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং সোমবার ভোর রাত ৩টায় তিনি মারা যান।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেট পাইলট স্কুলে ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি কামরানের। ছাত্রাবস্থায় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ কাঁপিয়েছেন। এর পর ‘৭৩-এ সিলেট পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনার পদে বিপুল ভোটে জয়ী হন কামরান। তখন তিনি মাত্র উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। সিসিকে আজ পর্যন্ত এত অল্প বয়সে জনপ্রতিনিধি হতে পারেননি কেউ।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র, এর পর নির্বাচিত মেয়র হিসেবে তার নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।

১৯৮৯ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন কামরান। ১৯৯২ সালে এবং ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মহানগর গঠিত হলে ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৫-এ সম্মেলনের মাধ্যমে এবং ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পান।

টানা তিন মেয়াদে দেড় যুগ মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে সভাপতির পদ ছেড়ে দেন কামরান। প্রায় তিন দশক কামরানবিহীন পথচলা শুরু হয় সিলেট আওয়ামী লীগের। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পাওয়া কামরান বর্তমান কমিটিতেও একই পদে ছিলেন।

এদিকে রাজনীতিবিদ কামরান জনপ্রতিনিধি হিসেবেও ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। ১৯৭৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাবস্থায় সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার হয়ে চমক দেখান জনতার কামরান। সেই থেকে সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন তিনি।

আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। টানা ১৫ বছর ছিলেন পৌরসভার কমিশনার। মাঝপথে খানিকটা বিরতি ছিল প্রবাসে যাওয়ায়। সেবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। প্রবাস থেকে ফিরেই ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০২ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান। ২০০৩ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসে নাম লেখান তিনি।

১/১১-এর সময়ে দুবার কারাবরণ করেন কামরান। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ দুটি সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন কামরান।

আর করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়ে রোববার দিবাগত রাত ৩টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান কামরান।

সুত্র : যুগান্তর


এ সম্পর্কিত আরো খবর

পূর্বের সংবাদ