নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে,দলীয় সরকারের অধীনে নয়:খালেদা জিয়া

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন এই সরকার ব্যর্থ। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন হবে।কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়। তিনি আজ নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন। বেলা সোয়া ৪টায় তিনি বক্তব্য শুরু করেন।বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে মঞ্চে পৌঁছেন তিনি। এ সময় নোতকর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। খালেদা জিয়া হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। সমাবেশ থেকে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে খালেদা জিয়ার।
এর আগে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলের জনসভা নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই শুরু হয়েছে।
দুপুর দেড়টায় মহানগর ১৮ দলীয় জোটের আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ও জোটের মহানগর নেতারা বক্তৃতা দেন।
এ দিকে জনসভা শুরুর অনেক পূর্বেই জনসভাস্থল প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। জনসভায় যোগ দিতে রাজধানীর চারদিকে থেকে স্রোতের মতো সমাবেশস্থলে আসছে মানুষ। জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবিতে সরগরম জনসভা। নয়া পল্টনের ১৮ দলের জনসভায় সকাল থেকেই জড়ো হয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামী নেতাদের মুক্তি দাবি করেছে ইসলামী ছাত্র শিবির।
সকাল ৮টার দিকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা-কর্মীরা নাইটেঙ্গলের কাছে অবস্থান নেয়। তারা সুশৃঙ্খলভাবে পল্টনে পশ্চিম পাশে সড়কের ওপর বসে পড়ে।
জনসভা প্রাঙ্গনে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবি সম্বলিত পাঁচটি বেলুন উড়িয়েছে তারা। বেলুনে লেখা আছে, অধ্যাপক গোলাম আজম, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সুবহান, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীর মুক্তি চাই। ফকিরপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে নেতাদের মুক্তি চেয়ে তাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার টানানো হয়েছে।
সমাবেশ শুরুর আগে মঞ্চে জাসাসের কর্মীরা গান গেয়ে সমাবেশস্থল মাতিয়ে রাখেন। তবে পুলিশ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা নেতাকর্মীদের নয়াপল্টনের জনসভায় আসতে নানাভাবে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ ১৮ দলীয় জোটের আরো কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ঘাট, চিটাগাং রোড, সাভার ও টঙ্গীসহ রাজধানীতে আসার প্রায় সব রুটেই পুলিশ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা জনসভায় আসতে বাধা দিয়েছে। জনসভার আগের রাতে নিউমার্কেট এলাকা থেকে ১৮ দলের নয় কর্মীকে আটকও করা হয়েছে। রাতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে গাবতলী ও তেজগাঁও এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে।
এসবের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে এভাবে বাধা দেয়া গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। সরকার এটি ঠিক করছে না। আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।