ইচ্ছা করলেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যাবে না,: ইসি

ঢাকা, ২৮ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- ইচ্ছা করলেই জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা যাবে না। আইন মেনেই ২০০৮ সালে দলটিকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছিল এবং আইন অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে।বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক একথা বলেন।সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপ চলাকালে ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি করেন।
জবাবে নির্বাচন কমিশনার মোবারক বলেন, ‘আইন দ্বারা বা আদালতের রায়ের মাধ্যমে কোন বিষয় স্বীকৃত হয়ে গেলে সেখান থেকে সরে আসা সহজ নয়।’

প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক গোলাম আযম বাংলাদেশের নাগরিক নয় একথা বলার কোন সুযোগ নেই। কারণ সুপ্রিমকোর্টের রায়ে তিনি নাগরিত্ব পেয়ে গেছেন।’

সংলাপে অংশ নিয়ে মহাজোটের অন্যতম নেতা রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা মনে করি সংবিধানের ১২৩ এর ৩ (ক) ধারা বাস্তবায়িত হলে (সংসদ বহাল রেখে) নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ রোধ করা হয়েছে।’

এছাড়া নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

নির্বাচন কমিশনের সাথে ওয়ার্কার্স পার্টির সংলাপে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। নির্বাচনকালীন সময়ে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, এলজিইডি ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে ইসির আওতায় আনা উচিত বলে মত দেন তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী বা সেনাবাহিনীকে সামনে আনা সমীচীন নয় বলে মনে করেন মেনন। তবে তারা আপদকালীন সময়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংলাপে নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে দলটি। এছাড়া আগামী ফ্রেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করার পরামর্শ দেয়।

এদিন ইসির সংলাপে আরো অংশ নেয় জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি- জেপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি।

দুপুরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবালয় সম্মেলনকক্ষে ইসির সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি- জেপি।

এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণকে এক নম্বর গুরুত্বের তালিকায় রাখার দাবি এবং সীমানা নির্ধারণে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ইসিকে।

সংলাপে জেপির পক্ষ থেকে অংশ নেন মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, আবদুর রহিম, শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, আবদুল লতিফ মল্লিক, আমেনা বারী প্রমুখ।

বিকালে জেএসডি’র সঙ্গে ইসির সংলাপে দলটির সভাপতি আ স ম রব বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান করতে না পারায় বারবার নির্বাচন কমিশন বির্তর্কিত হয়।

তিনি বলেন, বিদ্যমান কমিশনের কাছ থেকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা আশা করি। কোনো দলের বা সরকারের স্বার্থ রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে যেন পরিনত না হয় কমিশন।

এ সময় জাতীয় নির্বাচনে ৭ বিভাগে ৭দিনে ভোট গ্রহণের পরামর্শও দেয় দলটি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ সংলাপের শুরুতেই ভোটার তালিকা হালনাগাদ বিষয়ে দলগুলোকে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে একাধিকবার আপনাদের সঙ্গে বসতে চাই। বর্তমান সংলাপই শেষ সংলাপ না। আমাদের সামনে বড় দুটি নির্বাচন রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচন। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আমাদের সবার প্রত্যাশা।

সীমানা নির্ধারণের ব্যাপারে সিইসি বলেন, ‘সকলের মতামত নিয়ে সীমানা নির্ধারণের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. আবু হাফিজ, মো. শাহ নেওয়াজসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।