এ লড়াই আমাদের অস্থিত্বের লড়াই:মির্জা ফখরুল - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

এ লড়াই আমাদের অস্থিত্বের লড়াই:মির্জা ফখরুল



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা,০১ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঘোষিত কর্মসূচি সফলের আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, ‘‍‍‍‍এ লড়াই আমাদের অস্থিত্বের লড়াই। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের লড়াই। তাই এ আন্দোলন থেকে পিছু হটার কোন সুযোগ নেই।’শনিবার বিকেলে রাজধানী মহানগর নাট্যমঞ্চে এলডিপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ আহ্বান জানান।তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কেউ যদি অন্যভাবে জনগণের সামনে পরিচিত করাতে চান,  তাহলে তা সহ্য করা হবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন- তিনি শেষবারের মতো এ দেশের জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে চান। সুতরাং এ আন্দোলন থেকে পিছু হটার কোন সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘অবরোধ কর্মসূচি দেয়ায় সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সেজন্য তাদের লোকজন আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছেন। এজন্য কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- বিএনপি নাকি কর্মসূচি দিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ সরকার জনগণকে কিছুই দিতে পারেনি। তারা ক্ষমতায় এসে প্রথমে করেছে শেখ মুজিব হত্যার বিচার। এখন শুরু করেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। অথচ তারা জনগণকে যেসব ওয়াদা দিয়েছিল তার একটাও পূরণ করেনি।

মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা লুটপাট, খুন, গুম করবেন আর দেশপ্রেমিকরা কর্মসূচি দিতে পারবে না- এ ধারণা ভুল ও অমূলক।’

তিনি বলেন, সরকার আগামী নির্বাচন থেকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরত রাখতেই বাতিল হওয়া মামলা ফের পুনরুজ্জীবিত করছে। এজন্যই জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সাথে কৌশলে ১৮ দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরো বলেন, বিএনপি লগি-বৈঠার আন্দোলনে বিশ্বাস করে না। শান্তিপূণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এ ফ্যাসিস্ট নির্যাতনকারী সরকারকে ক্ষমতায় থেকে সরানো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা থেকে  বিদায় নেওয়ারও আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আশুলিয়া ও চট্টগ্রামে শ’ শ’ মানুষের প্রাণহানি হলেও জনগণকে আশ্বস্ত করার মত কোন বক্তব্য দেননি প্রধানমন্ত্রী। বরং সরকারি দলের লোকজন বলেছে- তারা নাকি এ ঘটনায় নাশকতার গন্ধ পাচ্ছেন।’

মির্জা ফখরুল এ নাশকতার জন্য সরকারকে দায়ী করেন।

এলডিপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এলডিপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে  কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে ফের সভাপতি ও রেদওয়ান আহমেদকে মহাসচিব করে তিন বছরের জন্য দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

সম্মেলনে সারা দেশের ৪৮টি সাংগঠনিক জেলার কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।

এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসহাক, কল্যাণ পার্টির সভাপতি  মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, এনপিপি সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল আর গানি, মহাসচিব গোলাম মুস্তফা প্রমুখ।


রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ