দেশকে সংঘাতের পথে ঠেলে না দেয়ার আহবান: খালেদা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

দেশকে সংঘাতের পথে ঠেলে না দেয়ার আহবান: খালেদা



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর(খবর তরঙ্গ ডটকম)- দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তি দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।সো মবার রাতে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন এই আহ্বান জানান।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমার সাথে সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন  পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেকের পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে রওনা দেয়ার প্রাক্কালে ফখরুলকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।’

‘আমি এ ধরনের ঘৃণ্য কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে মির্জা ফখরুলেরের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি’ যোগ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ সরকার গণতন্ত্রের নাম-নিশানা মুছে ফেলতে বর্তমানে নগ্ন ফ্যাসিবাদী চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে। গণবিচ্ছিন্ন এই সরকার খুন, গুম, হামলা, জুলুম, নির্যাতন, চক্রান্ত, গ্রেপ্তার ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন, ভিন্নমত দমন এবং দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে।’

তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজার ও ব্যাংকের অর্থ, রাষ্ট্রীয় তহবিল ও জনগণের সম্পদ তারা লুণ্ঠন করছে। জাতীয় সংসদ ও বিচার বিভাগসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও অকার্যকর করে ফেলেছে। প্রজাতন্ত্রের সংবিধান স্বেচ্ছাচারী কায়দায় তছনছ করে ডেকে এনেছে সংকট ও চরম শাসনতান্ত্রিক নৈরাজ্য।’

খালেদা জিয়া দাবি করে বলেন, ‘দেশের সচেতন ও বিবেকবান সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই সরকারের চরম ব্যর্থতা, অপশাসন এবং শাসকদলের সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থেকে একটি কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার অসদুদ্দেশ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিরোধী দল যখন জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় আন্দোলনের সূচনা করেছে, তখন স্বৈরাচারী ভূমিকায় আবির্ভূত হয়ে সরকার মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র ও চরম দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা কেবল প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতাই আরোপ করছে না, দলীয় সন্ত্রাসীদের নামিয়ে সশস্ত্র হামলাও চালাচ্ছে। কেবল বিরোধী দল নয়, সাধারণ মানুষের ওপরেও তারা আক্রমণ চালাচ্ছে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের ডাকা রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রোববার রাজপথে অবস্থানরত বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় গাবতলীতে তারা হামলা করেছে। আমাদের দলের প্রাক্তন এমপি নাজিমুদ্দিন আলম তাদের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। তারা আইনজীবীদের ওপর হামলা করেছে। সারাবিশ্ব দেখেছে, সরকারি দলের হিংস্র সন্ত্রাসীরা কি নৃশংসভাবে বিশ্বজিৎ নামের কর্মজীবী এক তরুণকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছত্রছায়ায় এইসব পৈশাচিক ঘটনা ঘটলেও এই সন্ত্রাসীদের কাউকে বাধা দেয়া হয়নি, গ্রেপ্তার করা হয়নি, এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়নি। অথচ বিরোধীদলের শত শত নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে আটক ও নির্যাতন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি সভ্য দেশে এমন দ্বৈত ব্যবস্থা চলতে পারে না। আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই- জুলুম-পীড়ন করে জনগণের ন্যায্য অধিকার ও দাবিকে কখনো নস্যাৎ করা যায় না।’
‘আমি সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে না দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি’ যোগ করেন খালেদা জিয়া।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবার ন্যায়-সঙ্গত অধিকার আপনাদের আছে। তাই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে এবং নিজেদের অধিকার আদায় করতে এই বিজয়ের মাসে সোচ্চার হোন। আগামীকাল সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলনকে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করুন।’

এরআগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ