হত্যা-নৈরাজ্যের নির্দেশদাতা হিসেবে ফখরুল গ্রেপ্তার : হানিফ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

হত্যা-নৈরাজ্যের নির্দেশদাতা হিসেবে ফখরুল গ্রেপ্তার : হানিফ



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, রোববার রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যার দায় কোনভাবেই বিএনপি এড়াতে পারে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আর এসব হত্যা-নৈরাজ্যের নির্দেশদাতা হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করাই স্বাভাবিক।’

সোমবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হানিফ এসব কথা বলেন।

রোববারের অবরোধে রাজধানী ঢাকার শাঁখারিবাজারে ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন পথচারী বিশ্বজিৎ দাস। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ হত্যার দায় কোনভাবেই আওয়ামী লীগ নিবে না। এর সমস্ত দায়ভার বিএনপির।’অবশ্য সকালে প্রেসক্লাবে মানবাধিকার কমিশনের এক সেমিনারে এই হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর।

এ সময় তিনি অবরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

মহিউদ্দীন খান বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা যদি গাড়ি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে চান, তাহলে আগে নিজের গাড়ি পুড়িয়ে প্রতিবাদ করুন।’

আর সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘ক্রিকেট দলের বিজয়ে দেশব্যাপী বিজয় উৎসবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন মিছিল করে। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বোমাবাজি করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল প্রকাশ্যে জনগণকে গাড়ি বের না করার হুমকি দিয়েছিলেন। তার নির্দেশেই সারা দেশে জ্বালাও-পোড়‌াও এবং হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। তাই এর সম্পূর্ণ দায়ভার মির্জা ফখরুল ও তার দলকেই নিতে হবে।’

আগামীকাল মঙ্গলবারের হরতাল সম্পর্কে হানিফ জানান, ‘আওয়ামী লীগ কোন পাল্টা কর্মসূচিতে বিশ্বাস করে না। তবে আগের মতোই নৈরাজ্য রোধে আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে।’

হরতালে কোন নাশকতা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কঠোর হাতে দমন করবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে জনগণও বিরোধী দলের এই নৈরাজ্য রুখে দিবে।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে যে কর্মসূচি দিয়েছে, তা প্রতিহতে ১৪ দল আগামী ২২ ডিসেম্বর সারা দেশে গণমিছিল কর্মসূচি পালন করবে।

যতই চেষ্টা করা হোক না কেন এই মাসের মধ্যেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বি এম মোজাম্মেল হক, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ