বিচার রাজনৈতিক দাবি রাজ্জাকের, আইনমন্ত্রীর অস্বীকার

আঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-  যুদ্ধাপরাধের বিচারকে রাজনৈতিক বলে দাবি করেছেন জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের পদত্যাগে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি।

বিবিসিকে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, ‘এটা সুস্পষ্ট যে, এই ইস্যুতে জাতি বিভক্ত। কারণ, কিছু মানুষ এ দাবি করছে। ক্ষমতাসীন দল ৪০ বছর আগের ঘটনাকে পুঁজি করে বিরোধী রাজনীতিকদের দমন-পীড়নের জন্য তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।’

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলছেন, ‘এই বিচার শতভাগ স্বচ্ছ এবং সকল আইন-কানুন মেনেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। একইসাথে বিচারে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং যথাযথ মান বজায় রাখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানের রাজনৈতিক বিচার বলে কিছুই হচ্ছে না। এ ধরনের অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।’

তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে ট্রাইব্যুনালের একজন সিনিয়র বিচারকের পদত্যাগের পর থেকে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

বেলজিয়াম প্রবাসী একজন আইন বিশেজ্ঞের সাথে স্কাইপিতে কথপোকথনের বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ওই বিচারক পদত্যাগ করেন।

এই পরিস্থিতিতে সরকার বিচার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা তা প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে বিচার শুরুর দাবি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার মাত্র দুদিন আগে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়।

সরকারি হিসাব মতে, এতে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে ঘটেছে ব্যাপক ধর্ষণের ঘটনা। এসব হত্যা-ধর্ষণে অনেক বাংলাদেশি পাকিস্তানিদের সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে জামায়াতে ইসলামী। দেশটির বৃহত্তর ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে ওই সময়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কাঠগড়ায় রয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।